উখিয়ার পাহাড়ে গড়া রহস্য স্থাপনা অবশেষে উচ্ছেদ


প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ০৪ জুন ২০১৫

কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়ার সেই দুর্গম পাহাড়ের অর্ধ-শতাধিক রহস্যময় স্থাপনা অবশেষে গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে বিজিবি, র্যা ব, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য এ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে দুটি বুলডোজার ব্যবহার করে অভিযানকারীরা। দেশব্যাপী নানাভাবে আলোচিত উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য অব্দুর রহমান বদি`র শ্যালক উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় এসব স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছিলো।

অভিযোগ রয়েছে, ১৫/২০ একর সরকারি বনভূমি দখল করে জঙ্গী সম্পৃক্ত বিদেশি এনজিও`র অর্থায়নে অর্ধ-শতাধিক সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এর আগেও একই এলাকায় জঙ্গী সম্পৃক্ত এনজিও`র অর্থায়নে এ রকম স্থাপনা করা হয়েছিল। সাংসদ বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী আন্তর্জাতিক এনজিও মুসলিম এইড এবং তুরস্কের আরো কয়েকটি এনজিও`র ২৬ কোটি টাকার অনুদানে দুর্গম পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণের জন্য এসব স্থাপনা নির্মাণ করতে সহায়তা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে তার ইটভাটা থেকেই ইট সরবরাহ করা হয় বলেও তথ্য রয়েছে।

গত ৯ এপ্রিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চার শতাধিক সদস্য নিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ-বাহিনী রহস্যময় স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল। এ সময় তারা জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সমর্থিত সশস্ত্র লোকজনের বাঁধার মুখে পড়ে। রহস্যময় স্থাপনাগুলো অক্ষত রাখতে পাহাড়ে যাতায়াতের রাস্তা পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয় তখন। প্রতিরোধে গেলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় ওই সময় উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। শেষ পর্যন্ত এলাকার সাংসদ আবদুর রহমান বদি ঘটনাস্থলে এসে হস্তক্ষেপ করেন।

ওইদিন তিনি যৌথ বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসে স্থাপনাগুলো স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় চান। সেই সঙ্গে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পাহাড়ের ভিতর এ রকম পরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের অর্থায়নের রহস্যও জানাবেন বলে কথা দেন। এসব কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়।

কিন্তু এক সপ্তাহের স্থগিতের কথা বলে দীর্ঘ প্রায় দু`মাস স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ না করায় নানা কথা উঠে। শেষ পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ মহলের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়।

কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বলেন, সরকারি বনভূমিতে রাতারাতি অবৈধভাবে করা কোটি টাকার স্থাপনা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। এ কারণে রহস্যময় এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে বনভূমি দখল মুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের পশ্চিমে দুর্গম মধুরছড়া নামক পাহাড়ে ১০/১৫ একর বনভূমি দখল করে সেমিপাকা অর্ধ-শতাধিক স্থাপনা গড়ার কাজের তত্ত্বাবধান করেছেন সাংসদ আবদুর রহমান বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। এলাকাবাসীর অভিযোগ এসব স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে জঙ্গী সম্পৃক্ত এনজিও`র অর্থ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, স্থানীয় মাছকারিয়া ভূমিহীন সমিতির ভূমিহীনরা তাদের জমানো টাকায় এসব স্থাপনা গড়ে তুলছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।