ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে লাগছে ৮ ঘণ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০১:৩১ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৭

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত দুই দিনে কয়েকটি দুর্ঘটনা এবং দাউদকান্দি ও মেঘনা টোলপ্লাজায় গাড়ির ওজন স্কেলিং এর কারণে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ব্যবসায়ী কায়সার আলম এশিয়া পরিবহন নামের একটি বাসে শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে মেঘনা সেতুর কাছে আটকে থাকেন প্রায় ৩ ঘণ্টা।

পরে দাউদকান্দি মেঘনা- গোমতী সেতুর কাছে আরও প্রায় ২ ঘণ্টা। অসহনীয় দুর্ভোগের পর প্রায় ৮ ঘণ্টা পর বিকেলে ফিরেন কুমিল্লা শহরে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান চালক রমজান আলীর দুর্দশা আরও ভয়াবহ। গৌরিপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছেই তিনি গাড়িতে বসে থাকেন প্রায় আড়াই ঘণ্টা।

দুই সেতুর উভয় প্রান্তের যানজট মোকাবেলা করে তার গাজিপুরে পৌঁছার কথা ছিল দুপুরের মধ্যেই। কিন্তু এরই মধ্যে দাউদকান্দিতেই দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়।

শুক্রবার দিনভর ভয়াবহ যানজটে নাকাল ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীদের যানজট যেন পিছু ছাড়ছে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দৌড়ঝাঁপও যেন কাজে আসছে না। যানজটের কারণে আসন্ন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য এটাই প্রধান দুর্ভোগের কারণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার থেকে এ মহাসড়কে যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ চলছে। রেহাই পায়নি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ভিআইপিদের গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন।

শুক্রবারও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহনকে বেশ ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য ছিল অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

যানজট দাউদকান্দির টোল প্লাজা থেকে ইলিয়েটগঞ্জ এবং পশ্চিম প্রান্তে মেঘনা-গোমতী সেতু পেরিয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও মেঘনা সেতু এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এতে দুর্ভোগে পড়ে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো হাজারও যাত্রী। শুক্রবার বিকেলের পর যানজট কিছুটা কমে আসলেও গাড়ির সংখ্যা ছিল খুবই কম।

দাউদকান্দি ওজন স্কেলে ওজন নিয়ন্ত্রণের নামে আপাতত ঈদ পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধ হলে যানজট অনেকটা কমে আসবে বলে যানবাহন চালকরা জানিয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের চার লেন থেকে দুই লেনের মেঘনা, মেঘনা-গোমতী দুইটি সেতুতে ধীর গতিতে প্রবেশ করতে সময় লাগছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের পথে আটকে থাকতে হচ্ছে।

এছাড়া দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুতে ওজন মাপার যন্ত্রে মালবাহী গাড়িগুলো পরীক্ষা করতেও সময় লাগছে। যানজট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী বাস এশিয়া লাইনের যাত্রী ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, ২ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসার কথা, কিন্তু যানজটের কারণে তার সময় লেগেছে ৭ ঘণ্টা।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের চালক জজু মিয়া জানান, বেলা ১১টার দিকে ময়নামতি পেরিয়ে গৌরিপুর বাজারে এসে ৩ ঘণ্টা বসে থেকেও দুপুর পর্যন্ত টোল প্লাজায় যেতে পারেননি। তিনি টোল প্লাজায় ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলের কার্যক্রম ঈদ পর্যন্ত বন্ধের দাবি করেছেন।

ট্রাকচালক মজিবুর রহমান বলেন, আগে দুই দিনেই মালামাল লোড-আনলোড করা যেতো। এখন চারদিন লেগে যাচ্ছে। দুই সেতুর কাছে এলে ৩/৪ ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশে ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের গাড়িগুলো দুই লেনের মেঘনা, মেঘনা-গোমতী দুইটি সেতুতে ধীর গতিতে প্রবেশ করতে সময় লেগে যায়। ওজন স্কেলের কারণেও অনেক সময় যানজট লেগে যায়।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের গাড়ির অতিরিক্ত চাপ ও গরুর গাড়ির চাপ রয়েছে। তাই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত রাস্তায় কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।