নাকুগাঁও স্থলবন্দরে কয়লা আমদানি বন্ধ : রাজস্ব আয়ে ধস
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে। এ স্থলবন্দর থেকে এবার মে মাস পর্যন্ত রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা স্থলবন্দরটি চালু হওয়ার পর সর্বনিম্ন রাজস্ব আয় বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের মে মাস পর্যন্ত নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে কোন প্রকার কয়লা আমদানি হয়নি। শুধুমাত্র বোল্ডার পাথর আমদানি ও বিক্রি চালু আছে। এসময় ভারত থেকে কেবল পাথর আমদানি করা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০ মেট্রিক টন।
অপরদিকে, এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ক্রাউন ব্রান্ডের সিমেন্ট রফতানি করা হয়েছে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন এবং মশারির জাল রফতানি করা হয়েছে ১৬৫ মেট্রক টন। এছাড়াও তৈরি লুঙ্গির একটি শিপমেন্ট রফতানি করা হয়েছে। তাছাড়া নাকুগাঁও স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে কিছু লোকজন এপার-ওপার যাতায়াত করেছে। এতে পাথর আমদানি ও ইমিগ্রেশন শুল্ক বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
নাকগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক আবির ট্রের্ডাসের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আক্তারুজ্জান বলেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং-এর একটি আদালতে পরিবেশবাদীরা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করে। সেই মামলার ফলে ভারত থেকে চলতি বছর নাকগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে কোন কয়লা আমদানি করা সম্ভব হয়নি। ভারতের পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও ভারতের ঢালু কাস্টমস হাউজে ওয়েট মেশিন (ওজন পরিমাপক যন্ত্র) না থাকার কারণেও কয়লা আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে এ বন্দরের আমদানি-রফতানিকারকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আগের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ বন্দরে প্রতি অর্থবছরে কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো। কিন্তু গত মে মাস পর্যন্ত রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সর্বনিম্ন রাজস্ব আয়। এ অর্থবছরে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আয়ে এমন ঘাটতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাকিম বাবুল/এসএস/আরআইপি