‘বাদশা মিয়া’র দাম ৮ লাখ টাকা
গায়ের রঙ কুচকুচে কালো। মাঝেমধ্যে গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়া হচ্ছে ‘বাদশা মিয়া’র। কিছুক্ষণ পরপর গা মুছে দেয়ায় তা যেন আরও চকচক করছে।
‘রাজা মিয়া’র বড় ভাই ‘বাদশা মিয়া’র দাম হাকিয়েছে ৮ লাখ টাকা। বহু যত্ন করে ছোট থেকে লালন করে বড় করে দেশী খাদ্য খাইয়ে বড় করা হয়েছে।
‘বাদশা মিয়াকে লালন পালন করে বড় করতে যা খরচ তার হয়েছে তা উঠে এবং কিছু লাভ হলে বিক্রি করে দিমু। অতিরিক্ত লাভের চিন্তা নাই।’
‘বাজারের পরিস্থিতি দেখে বাদশাকে ছেড়ে দেব। বাদশাকে হাটের তোলার পর প্রতিদিনই নারী-পরুষ সবাই তাকে দেখতে আসে। কেউ আসে গরু ক্রয় করতে আবার কেউ আসে গরু দেখতে। হাটে প্রবেশ করেই সবাই বাদশাকে দেখে দাম জিজ্ঞাসা করে।’
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের গরুর হাটে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানার বলিয়াপুর এলাকার গরুর বেপারী হাসিবুল ইসলাম জাগো নিউজের সঙ্গে এসব কথা বলেন।
গরুর বেপারী হাসিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে গরুর খামার করে বিভিন্ন জাতের গরুর পোষা হয়। পরিবারের সকল সদস্যের সহযোগিতায় ছোট আকার থেকে এখন খামার অনেক বড় করা হয়েছে। প্রতি বছর কোরবানির সময় প্রায় ২৫-৩০ গরুর বিক্রির উপযোগী করা হয়।

খামারে দেশী ও অস্ট্রেলিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের বাছুরকে উন্নত জাতের খাবার খাইয়ে বিক্রির উপযোগী করা হয়। এ বছরও কয়েক গরুর বিক্রির উপযোগী করা হয়েছে। কষ্ট আর খরচের টাকা উঠলেই খামার করার সার্থকতা হবে।
হাসিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে আরও বলেন, গত ২৬ আগস্ট শনিবার চুয়াডাঙ্গা হতে ১৮ হাজার ট্রাক ভাড়া করে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের গরুর হাটে বাদশা মিয়াকে নিয়ে আসা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার আশায় বাদশাকে ফতুল্লার হাটে নিয়ে এসেছি। বাদশার দাম চাওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা। আর গরুটি দেখে পছন্দ করে কেউ তিন লাখ ৫০ হাজার কেউ আবার তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা দাম বলেছেন। বাজারের পরিস্থিতি দেখে ভালো দাম পেলে দ্রুত ছেড়ে দিয়ে বাদশার ছোট ভাই রাজাসহ আরও কিছু গরু আছে তা আসবো।
তিনি আরও বলেন, বাদশার মা এখনও আমার খামারে আছে। আমার খামারেই বাদশার জন্ম হয়। তার বয়স যখন ১৬ মাস হয় তখন থেকে তাকে বাড়তি খামার দিয়ে লালন পালন করে বড় করা হয়। বর্তমানে বাদশার বয়স তিন বছর চার মাস। আর অনেক আদর যত্ন করে রাজা-বাদশাকে বড় করা হয়েছে।
মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি