অনিশ্চয়তার মুখে বেনাপোলের পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন
যশোরের বেনাপোলের পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসন থেকে প্রকৃত দাম নির্ধারণ না করায় জমির মালিকরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এর আগে ২৫ মে তারা লিখিতভাবে যশোর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেন।
শার্শার উত্তর বুরুজবাগানের বাসিন্দা জমির মালিক (ভুক্তভোগী) শফিউর রহমান জানান, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে শার্শার শ্যামলাগাছি নামক স্থানে সরকার পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। এজন্য ৫ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৪৫ জন কৃষকের কাছ থেকে জমি ক্রয় করতে প্রতি শতাংশ ২৬ হাজার ৭৪৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বেসরকারিভাবে সেখানে কেনাবেচা চলছে শতক প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
শফিউর রহমান আরো জানান, শার্শা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য মতে, তাদের ৫ একর জমি ডাঙ্গা শ্রেণির। সরকারি এ হিসেবেই প্রতি শতক জমির দাম হয় ৬৭ হাজার ৬৪৫ টাকা। কিন্তু যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ঘুষ না দেয়ায় তারা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ডাঙ্গা শ্রেণি জমিকে ধানী শ্রেণি দেখিয়ে দাম কম নির্ধারণ করেছেন।
জমির অপর মালিক ত্রিমোহিনী গ্রামের দিন মোহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, হয় জমির ন্যায্য মূল্য দেয়া হোক না হলে প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি করছি। কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবে।
এদিকে, ভুক্তভোগী ৪৫ জন কৃষক তাদের এ সমস্যার কথা স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু ও ১০ নম্বর শার্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেনকে অবহিত করেছেন। কিন্তু তারা কোনো ফলাফল পাননি বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মাদ আসাদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, কৃষকদের ওই জমি ধানী শ্রেণির। সেই অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরো কৃষকদের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. জামাল হোসেন/এমজেড/আরআইপি