চোখে দেখেন না রানী বেগম, ১০ বছর পর এলেন ভোটকেন্দ্রে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: জাগো নিউজ

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জ-২ আসনের আন্ধারমানিক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নারী ভোটারদের সারি ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে ছিল এক গণতান্ত্রিক উৎসবের আবহ। সেই ভিড়ের মধ্যেই সবার নজর কেড়েছেন ৭০ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রানী বেগম।

চোখে আলো নেই বহু বছর ধরেই। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। দীর্ঘ ১০ বছর পর ভোট দিতে এসেছেন নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে। আন্ধারমানিক এলাকা থেকে হেঁটে হেঁটে ছোট বোনের ছেলে রফিককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছান কেন্দ্রে।

ভোটকেন্দ্রে পৌঁছালে দায়িত্বরত এক নারী আনসার সদস্য তাকে সহায়তা করে ভোটকক্ষে নিয়ে যান। পোলিং অফিসার আনিছা আক্তার লাবনী তার ভোটার নম্বর যাচাই করে ব্যালট পেপার প্রদান করেন। এরপর ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে গোপন কক্ষে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন রানী বেগম।

ভোট দিয়ে বের হয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি চোখে না দেখলেও মনের হৃদয় দিয়ে দেখতে পারি। কেউ আমাকে প্রভাবিত করে নাই। আমি আমার ভোট নিজ জ্ঞানেই দিয়েছি। ভোট দিয়ে খুব ভালো লাগছে। ভাগিনার কাছে শুনলাম, অনেক মানুষ ভোট দিতে এসেছে।’

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন মৃধা জানান, সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ভালো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।

তিনি আরও জানান, যারা অসুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী রয়েছেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করছি। এই কেন্দ্রে তিনটি ওয়ার্ডের মোট ২ হাজার ২৩৭ জন নারী ভোটার রয়েছেন।

রানী বেগমের ভোট দিতে আসা শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, এটি এক মানবিক বার্তা। অধিকার আদায়ে শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাধা হতে পারে না। গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নেওয়ার এই দৃঢ়তা প্রমাণ করে, আলো না দেখলেও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়।

মোঃ সজল আলী/এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।