জামালপুরের সর্বত্রে বন্যার ক্ষতচিহ্ন
জামালপুরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যায় বিধ্বস্ত ঘরে ফিরে আবারও লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের। বন্যার পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার ৭টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলাজুড়ে এখন শুধুই বন্যার ক্ষতচিহ্ন।
প্রথম দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই দ্বিতীয় দফায় বন্যা আসায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। বন্যার পানি যতই নামছে ততই বেরিয়ে আসছে ক্ষত-বিক্ষত রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট আর বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি। পুরো জেলার ৭টি উপজেলা জুড়েই এখন এমন চিত্র। প্রায় দুই সপ্তাহের বন্যায় ভেঙে পড়েছে জেলার ৭ উপজেলার আন্তঃইউনিয়ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে জেলার এক হাজার ১০৪ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা, ১৫ কিলোমিটার সড়ক বাঁধ আর ৪৪টি ব্রিজ কালভার্ট।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৮৫৬টি বসতঘর আর নদীতে বিলীন হয়েছে ৪০১টি ঘর। এর মধ্যে ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী, কুলকান্দি, সাপধরী, বেলগাছা, চিনাডুলি এবং নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের দুই সহশ্রাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বন্যায় ভেসে গেছে। এ অবস্থায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে ফিরে আবারও লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে। শুধু রাস্তাঘাট আর বাড়িঘর নয় এবারের বন্যায় ৫০ হাজার ১২৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৯১ হেক্টর জমির ফসল। এক হাজার ২০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০৯টি।
পার্থশী ইউনিয়নের মুরাদাবাদ গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা দু-চার কেজি চাল, ডালের ত্রাণ চাই না। বন্যা এবং নদী ভাঙন ঠেকাতে শক্ত বাঁধ চাই। প্রতি বছর বন্যায় আমরা যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হই, সেই ক্ষতি ত্রাণ সহায়তায় পূরণ হবে না। এই জন্য সরকারকে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই গ্রামের জাফর আলী বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে নদী ভাঙন শুরু হলে বাড়িঘর নদীতে ভেসে যায়, কিন্তু এবারই প্রথম দেখলাম পানির স্রোতে ঘরবাড়ি ভেঙে গেল। আমার দুইটা হাফ বিল্ডিং বন্যার পানির ঘুর্ণিতে মাটিতে দেবে গেছে। এখন আমার মাথা গোজার মতো জায়গা নেই।
জামালপুর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এবারের বন্যায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৫০ লাখ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২ হাজার বান্ডিল ঢেউ টিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রাসেল সাবরিন বন্যার ক্ষয়-ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, যতো দ্রুত সম্ভব পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি এক বান্ডিল ঢেউ টিনের সঙ্গে নগদ তিন হাজার টাকা বিতরণ করা হবে।

দ্বিতীয় দফা বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল জামালপুর জেলার ৭ উপজেলার ৬২টি ইউনিয়নের প্রায় ২ হাচার গ্রাম। দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় পানির সঙ্গে লড়াই করে থাকতে হয়েছে ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪২ জন মানুষকে। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। তাই শুধু আশ্বাস নয়, অসহায় এই মানুষগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সরকার তাদের পাশে থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের।
শুভ্র মেহেদী/আরএআর/জেআইএম