খাজনা দিতে শেষ চামড়া বিক্রির টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৫:০৭ এএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নওগাঁ জেলায় প্রায় এক লাখের অধিক গৃহপালিত পশু কোরবানি দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা। কোরবানির পশুর চামড়ায় গরীব-মিসকিনদের হক রয়েছে। উপযুক্ত মূল্যে কোরবানিদাতারা চামড়া বিক্রি করে সেই টাকা গরীব-মিসকিনদের দিয়ে থাকেন। তবে চামড়ার দাম এবার কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গরীব-মিসকিনরা। আর মাঝখান থেকে লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।

কোরবানি ঈদের সময় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা থাকে বেশি। তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া কিনে থাকেন। লাভের টাকা থেকে আবার তা পরিশোধ করে থাকেন। তারা গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া কিনে চামড়া হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন।

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ২৫০ জনের মতো সদস্য হলেও কোরবানি ঈদে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো ফড়িয়া ব্যবসয়ী চামড়া কেনেন। এ ঈদে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন। চামড়া কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে তাদের। কেউ কেউ কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করেছেন। আবার যারা কোরবানি দিয়েছেন তারাও চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি বলেও জানা গেছে। এক কথায় পানির দামে তাদের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।

naogaon

শনিবার ঈদের দিন ছিল জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাট চামড়ার হাট। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বকরির চামড়া ৫-১৫ টাকা, খাসির চামড়া ১০-৫০ টাকা, বকনা গরুর চামড়া ১৫০-২০০, ষাঁড় গরুর চামড়া ৭৫০-৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মান্দার গনেশপুর গ্রামের খাইরুল জানান, এবার একটি বকরি কোরবানি দিয়েছেন। তিন কিলোমিটার দূর থেকে সতিহাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে বড়ই বিপদে পড়েছেন। চামড়ার দাম না থাকায় পাঁচ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে চামড়ার খাজনাই পাঁচ টাকা। তবে চামড়ার দাম না থাকায় গরীব-মিসকিনরা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাঁচা চামড়া কিনেছেন। চামড়ার হাটে বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা না আসায় কিছুটা লোকসানে আশঙ্কা করছেন তিনি।

পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকা নতুন হাটের চামড়া ব্যবসায়ী নয়ন কুমার বলেন, ধারদেনার টাকায় চামড়া কিনে খুব হতাশার মধ্যে পড়েছি। চামড়া পচন রোধে লবণ দিতে হয়েছে। লবণের দামও বেশি। পাইকাররাও তেমন আসছেন না। এ মাল কবে বিক্রি হবে তার কোনো ঠিক নেই।

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার থেকে ফড়িয়া ব্যবসয়ীরা অনেক বেশি দামে চামড়া কিনেছে। তারা চামড়ার ধরন ও ফুট না বুঝে বেশি দামে চামড়া কেনায় এখন লোকসানের মুখে। ফলে বেশি দামে চামড়া কেনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগামীতে চামড়ার বাজার পাটের তুলনায় খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

আব্বাস আলী/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।