নেত্রকোনায় শিলাবৃষ্টি-ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১১:০২ এএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া প্রায় ২৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসময় ঝড়ে উপজেলার সদর, আগিয়া, হোগলা, ঘাগড়া, বিশকাকুনী, ধলামূলগাঁও ও নারান্দিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভেঙে গেছে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটিসহ ঘরবাড়ি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক ঝড় ও শিলার আঘাতে টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে। অনেক স্থানে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সকাল দশটা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে নিরূপণ করা যায়নি।

ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার বলেন, হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। টিনের চালের ওপর শিলা পড়ার শব্দে মনে হচ্ছিল পাথর ছুড়ে মারা হচ্ছে। দরজা-জানালা বন্ধ রাখা যাচ্ছিল না, ঝড়ের চাপ এত বেশি ছিল।

একই ইউনিয়নের কৃষক মো. আইনউদ্দিন খাঁ জানান, শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো ধানের তোড় পুরোপুরি না আসায় বড় ক্ষতি হয়নি, তবে অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেত্রকোনায় শিলাবৃষ্টি-ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি

আগিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোশাররফ তালুকদার বলেন, এমন শিলাবৃষ্টি আগে খুব কম দেখেছি। টিনের চালের ওপর বিকট শব্দে বোঝা গেছে শিলার আঘাত কতটা ভয়ঙ্কর ছিল।

পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, পূর্বধলায় নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে বোরো ধান, শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনায় শিলাবৃষ্টি-ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি

এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে জারিয়া লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ঝড়ের কারণে উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে, ফলে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল আটকে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ সরিয়ে ফেললে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এইচ এম কামাল/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।