খুলনার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড়
ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হয়েছে একদিন আগে। নাড়ির টানে যারা ঈদ উদযাপন করতে খুলনায় এসেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে গেছেন কর্মস্থলে।
তবুও সোমবার খুলনার বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে ছিল দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে অনেকেই সময় অতিবাহিত করেছেন এসব বিনোদনকেন্দ্রে।
যদিও বিনোদনকেন্দ্র বলতে যা বোঝায় খুলনার এগুলো তা নয়। তবুও সময় কাটানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর খুলনাতে নেই। সে কারণেই খুলনার জাতিসংঘ শিশুপার্ক, জাহানাবাদ চিড়িয়াখানা আর রূপসা সেতুতে ঢল নামে খুলনাবাসীর।
সোমবার খুলনার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বনবিলাস শিশু পার্কের সামনে অনেককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে।
তাদের ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে দেখে এখানে ঘুরতে আসা খুলনার কবি মোহাম্মদ অয়েজুল হক বলেন, ‘ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’ বাংলার বহুল প্রচলিত এই শ্লোক বা প্রবাদের মতো অনেকে পায়ে হেঁটে পার্কে ঘুরে আবার ঘোড়ায় চড়ে।

তিনি আরও বলেন, খুলনার সৌন্দর্যের অনন্য প্রতীক জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট। খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশ দিয়ে গিলাতলা এলাকাজুড়ে গৌরবে অবস্থান করে আছে, জাহানাবাদ আর্মি ট্রেনিং সেন্টার, জাহানাবাদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জাহানাবাদ সেনানিবাস, বনবিলাস শিশুপার্ক ও চিড়িয়াখানা। খুলনাসহ দূরদুরান্ত থেকে মানুষ সময় পেলেই বিনোদনের জন্য এখানে আসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের তিন দিনেও ফুরায়নি উৎসবের আমেজ। পরিবার-পরিজন বন্ধু-বান্ধব মিলে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন মানুষ। শিশুপার্ক ও চিড়িয়াখানায় নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোরের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
এখানে ঘুরতে এসে মহানগরী খুলনার খালিশপুরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক হাওলাদার বেশ উচ্ছ্বাসিত। তিনি বলেন, প্রথম দিনের আনন্দ কেটেছে কোরবানি, গরু জবাই এসব নিয়ে। আজ বেরিয়েছি। অনেক মানুষ, খুব আনন্দ করছি।
ফুলবাড়ী গেটের বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, জাহানাবাদ সেনানিবাস চিড়িয়াখানা ও পার্কের পরিবেশটা খুব সুন্দর। বাচ্চাদের জন্য কয়েকটি রাইড আছে এখানে। আছে অনেক পশু পাখি। যা দেখে শিশুরা খুব আনন্দ পায়।

ডা. পলাশ কুমার মন্ডল স্বপরিবারে নোয়াপাড়া থেকে এসেছেন জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট চিড়িয়াখানায়। কি উপলক্ষে আসা এমন প্রশ্নে মুখে হাসি টেনে বলেন, ঈদ উৎসব সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছি।
ক্যান্টনমেন্টের পার্ক ও চিড়িয়াখানার মতো রূপসা সেতু, নগরীর খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, হাদিস পার্ক, ফরেস্ট ঘাটে উপচেপড়া মানুষের ভিড় রয়েছে।
বিশেষ করে জাতিসংঘ শিশুপার্কের ৫দিন ব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলা ও খালিশপুর নয়াবাটি হাজি শরীয়াতুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী ঈদ মেলায় মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
আলমগীর হান্নান/এএম/এমএস