বাঁশের বেড়া দিয়ে ২৩ পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:১৭ এএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সিরঙ্গল গ্রামে ২৩টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে ওই গ্রামের প্রভাবশালীরা। ফলে গত তিনদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও তাদের স্কুল পড়ুয়া সন্তানরা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেয়ার কারণে ওই বেড়া এড়িয়ে ফসলের খেত ধরে যাতায়াত করছে লোকজন। তবে কেউ কেউ আবার প্রভাবশালীদের ভয়ে অন্য পথ ধরে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার ফতেহজঙ্গপুর ইউনিয়ন পরিষদ পাকা সড়ক থেকে সিরঙ্গল গ্রামের দিঘির পাড় সড়কের একাংশে প্রায় ২৩টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। সেখানে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি কিছুদিন আগে পাকা করার জন্য ইটের সুরকি ফেলা হয়।

প্রথমে নড়িয়া উন্নয়ন প্রকল্প নামে ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়ন পরিষদ পাকা সড়ক থেকে দীঘিরপাড় জামে মসজিদ পর্যন্ত ৭৬০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রজেক্টটি পরবর্তীতে অপর একটি কারিগরি প্রতিবেদনে দীঘিরপাড় জামে মসজিদের নাম বাদ দিয়ে ডান দিক দিয়ে সিরঙ্গল মৌজার হাসেম ছৈয়াল ও বাবুল ছৈয়ালের পৈত্রিক বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানের উপর দিয়ে এবং লোকমান মাদবর গংদের পৈত্রিক আবাদী জমির উপর দিয়ে জলিল মাদবরের মৎস্য খামার পর্যন্ত প্রতিবেদন করা হয়। দ্বিতীয় প্রতিবেদনে সড়কের দৈর্ঘ্য ৮২৫ মিটার উল্লেখ করা হয়েছে।

দীঘিরপাড় জামে মসজিদ দিয়ে সড়ক না নিয়ে পৈত্রিক বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানের উপর দিয়ে নেয়ায় গত ৩ আগস্ট রোববার বাবুল ছৈয়াল এবং আনোয়ার মেম্বারের লোকজনদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আব্দুল জলিল মাদবর (৮০) নামে একজন গুরুতর আহত হন। সেই ঘটনার জেরে স্থানীয় প্রভাবশালী আনোয়ার মেম্বার তার লোকজন নিয়ে গত সোমবার (৪ আগস্ট) রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেন।

আনোয়ার মেম্বার বলেন, বাবুল ছৈয়ালগংদের সঙ্গে আমার জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। কিন্তু আমি রাস্তায় বেড়া দেইনি। বেড়া দিয়েছে গ্রামের মুরব্বিরা।

তবে বাবুল ছৈয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন খন্দকার বলেন, আমি এ বিষয়টি জানি। জানার পর নড়িয়া ইউএনও এবং নড়িয়া থানা পুলিশের ওসিকে বলেছি যে, এই বিষয়টি দেখে সমাধান করে দেন।

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ কোনো মন্তব্য করতে রাচজ হননি।

নড়িয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি বাঁশের বেড়াটি উঠিয়ে দিতে। কী হয়েছে পরে দেখা যাবে।

ছগির হোসেন/আরএআর/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।