নওগাঁ-ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ভাড়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:৫০ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

গত ৪ সেপ্টেম্বর ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে। খুলেছে সরকারি-অফিস আদালতসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে আসা মানুষগুলো এখন কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছেন। আর এ সুযোগে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

নিরুপায় হয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়েই টিকিট নিতে এক প্রকার বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার বাসের টিকিট না পেয়ে ফিরেও গেছেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

নওগাঁ শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রকি পরিবহন ৭০০ টাকা, কেয়া পরিবহন ৭০০টাকা, বিচিত্রা ট্রাভেলস ৭০০ টাকা, চাঁদনি ট্রাভেলস ৭০০ টাকা, তনয় ট্রাভেলস ৭০০ টাকা, শাহ্ ফতেহ আলী ৬০০ টাকা, একতা পরিবহন ৫০০ টাকা, শ্যামলী পরিবহন ৫০০ টাকা এবং এসআর ট্রাভেলস ৫০০ টাকায় টিকিট বিক্রি করছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে নওগাঁ-ঢাকা চলাচলকারী অন্যান্য বাস মালিক কর্তৃপক্ষ যে যার মতো করে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে।

ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার জন্য নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডগুলোতে এখন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড়। সবাই গন্তব্যস্থলে পৌঁছার জন্য কাউন্টারগুলোতে টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনেকে ঈদের আগেই টিকিট কিনেছেন। আবার অনেকে দিনের দিন টিকিট কিনে ঢাকায় ফিরছেন। অগ্রীম টিকিট না পেয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে এখন টিকিট কিনতে হচ্ছে তাদের।

ঢাকায় যাওয়ার জন্য শাহ্ ফতেহ আলী থেকে ৬০০ টাকায় একটি টিকিট কিনেছেন সজীব নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় নওগাঁ থেকে বাস রওয়ানা দিয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে।

Naogaon-Bus-Counter

অপর যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কাউন্টারে এখন ব্যাপক ভীড়। টিকিট পাওয়াই এখন সৌভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কষ্ট করে বিচিত্রা ট্রাভেলস থেকে ৭০০ টাকায় একটি টিকিট পেয়েছি।

রকি পরিবহনের ম্যানজার বিপুল ও বিচিত্রা ট্রাভেলস ম্যানেজার ববিন বলেন, সারা বছর আমাদের তেমন ব্যবসা হয় না। আর আমরা এক সাইড ব্যবসা করি। বিশেষ করে ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। ঢাকায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর ফিরতি সময় প্রায় ফাঁকা বাস নিয়ে আসতে হয়। যার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা ভাড়া একটু বেশি নিয়ে থাকি।

নওগাঁর এসআর ট্রাভেলস ম্যানেজার মোরশেদ বলেন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নিয়ম অনুসারে সরকারি ভাড়া ৪৭০ টাকা। সারা বছর আমরা ৭০ টাকা কমিশন দিয়ে ৪০০ টাকায় যাত্রীদের টিকিট দিয়ে থাকি। কিন্তু ঈদের সময় আমরা ৫০০ টাকা ভাড়া নিয়। যদিও সরকারি নিয়ম থেকে ৩০ টাকা বেশি। এ ৩০ টাকা বেশি নেয়াও ঠিক হচ্ছে না।

নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। তবে যারা অনিয়ম করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

আব্বাস আলী/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।