মুক্তিরাণীর বাচ্চার নাম রাখা হলো বন মাধুরী
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো জন্ম দেয়া হস্তী শাবকের নাম রাখা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মো. আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ সাফারি পার্ক পরিদর্শনে আসেন। তিনি পার্কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। পরে তিনি হাতিশালায় যান। সেখানে সম্প্রতি জন্ম নেয়া হাতির বাচ্ছাটি দেখেন। তিনি মা হাতি মুক্তিরাণীর জন্ম নেয়া মেয়ে শাবকের ‘বন মাধুরী’ নামকরণ করেন।
পরিদর্শনকালে বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী) জাহিদুল কবির, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) মো. জহির উদ্দিন আকন, সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক সামসুল আজম উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, পার্ক কর্তৃপক্ষ হাতি শাবকটির ৩-৪টি নাম প্রস্তাব করেছিলেন। এর মধ্যে সচিবের দেয়া বন মাধুরী নামটি চূড়ান্ত করা হয়।
গত ২৭ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো আবদ্ধ অবস্থায় হাতি শাবকের জন্ম দেয়। যা বাংলাদেশে এক বিরল ঘটনা।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০১৩ সালে ৬টি বন্যহাতি এ সাফারি পার্কে এনে পোষ মানানো হয়। এদের মধ্যে দুইটি পুরুষ ও চারটি হলো মাদি। বাংলাদেশ বনশিল্প কর্পোরেশনের কাছ থেকে পাওয়া এশিয়ান ‘মুক্তি রাণী’ মা হাতিটি দীর্ঘ চার বছর পরে ২৭ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে পার্কে হাতিশালার পাশে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রথম শাবক প্রসব করে।
এ শাবকটি নিয়ে সাফারি পার্কে হাতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা হলো ৭। এর আগে এদেশের কোনো পার্ক বা চিড়িয়াখানায় আবদ্ধ পরিবেশে হস্তী শাবক প্রসবের তথ্য নেই। শাবকটির প্রসবকালীন ওজন প্রায় ৬০ কেজি। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি সাধারণত চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কেজি ওজন হয়। ১৮-২০ বছরের মধ্যে হাতি প্রজনন সক্ষম হয়। এদের গর্ভকালীন সময় ২০ থেকে ২২ মাস। সাধারণত চার-পাঁচ বছর পর একটি করে বাচ্চা প্রসব করে। হাতির সামনের দুই পায়ের মাঝখানে বক্ষদেশে (দুই নিপলযুক্ত) স্তন থাকে। শাবক সাধারণত সাড়ে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে। আবদ্ধ অবস্থায় হাতির গড় আয়ু ১০০ বছর। আর প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশে একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কেই হাতি শাবক জন্ম নেয়। এর আগে বাংলাদেশের কোথাও কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানায় কোনো হাতি শাবক জন্ম নেয়ার তথ্য নেই। এমনকি শত বছরের পুরোনো ঢাকা চিড়িয়াখানায়ও হাতি বাচ্চা দিতে পারেনি।
এর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ জানায়, হাতি গভীর অরণ্যে নিরিবিলি পরিবেশ বসবাস করতে পছন্দ করে। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে সে ব্যবস্থা রয়েছে। বেশির ভাগ সময়ে এখানকার হাতিগুলো উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকে। এছাড়া তাদের পছন্দের সমস্ত খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিটি হাতিকে নিবীড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। হাতি বসবাসের জন্য কোলাহলমুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় এখানে শাবক জন্ম দেয়।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/আইআই