ময়মনসিংহ

টানাবৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ৬ গ্রাম প্লাবিত, ডুবে গেছে ফসলি জমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ৩০ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলি জমি। পাশের ধোবাউড়ার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে বোরোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি হালুয়াঘাটের বোরারঘাট নদীর বাঁধে সৃষ্ট ভাঙা অংশ দিয়ে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের গাজীরভিটা, বোয়ালমারা, মহাজনীকান্দা, পাগলাবাজার, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান, ভুট্টা ও বাদাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। আর ধোবাউড়া উপজেলায় নেতাই নদীর পানিতে রাবার ডেম সড়ক ভেঙে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, হালুয়াঘাটের অন্তত ছয়টি গ্রামে আবাদ করা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বোরো ধানক্ষেত ছাড়াও বাদাম, ভুট্টা ও রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামের নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে আলাদা দুশ্চিন্তায় আছেন অনেক খামারিরা। অনেকে জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে বোরারঘাট বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পাহাড়ি ঢলে মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করছে না।

টানাবৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ৬ গ্রাম প্লাবিত, ডুবে গেছে ফসলি জমি

এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অনেকগুলো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পাশের ধোবাউড়া উপজেলার নেতাই নদীর পানি বেড়ে যায়। একপর্যায়ে গামারীতলা ইউনিয়নের কলসিন্দুর গ্রামের রনশিংহপুড় এলাকায় রাবার ডেম সড়ক ভেঙে যায়। এতে রনশিংহপুড় ও বাঘবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘবেড় গ্রামের ধুমকাটা এলাকায় প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

হালুয়াঘাটের আনচেংগ্রী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বোরো ধানে শীষ বের হতো, কিন্তু এখন সব পানির নিচে। এতে দুশ্চিন্তা কাটছে না।

একই উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান বলেন, মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় নদীর বাঁধ কয়েক বছর আগে ভেঙে যায়। কিন্তু তা মেরামত না করায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকায় দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে। বাঁধটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।

ধোবাউড়া উপজেলার রনশিংহপুড়ের বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, হঠাৎ করে রাবার ডেম সড়কটি ভেঙে গিয়ে দ্রুত গতিতে পানি নিচু জমিগুলোতে প্রবেশ করতে থাকে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। পানি আরও কয়েকদিন থাকলে প্রচুর ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

টানাবৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ৬ গ্রাম প্লাবিত, ডুবে গেছে ফসলি জমি

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের অন্তত ২০০ একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ধোবাউড়ায় আরও অন্তত ১০০ একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো আজ সোমবার পরিদর্শনে যাচ্ছি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত বলেন, বোরারঘাট বাঁধটি দুই বছর আগে ভেঙে গিয়েছিল। এটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ভেঙে যাওয়া রাবার ডেম সড়কটি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে বলা হয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।