মান্দায় র‌্যাবের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নওগাঁর মান্দায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৫ (র‌্যাব) এর সদস্যদের নির্যাতনে মোজাহারুল ইসলাম ওরফে জিএস (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত মোজাহারুল ইসলাম মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কৈবর্ত্যপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে। মোজাহারুল ইসলাম এলাকায় জিএস নামেই বেশি পরিচিত।

নিহতের স্বজনদের দাবি, আটকের পর র‌্যাব সদস্যরা দফায় দফায় অমানবিকভাবে পিটিয়ে মোজাহারকে অসুস্থ করে ফেলে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। র‌্যাবের দাবি মোজাহারুল মাদকসহ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর পরিবারের দাবি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না মোজাহারুল। এমনকি থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগও নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোজাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন বিদেশ ছিল। গত ৪-৫ বছর আগে দেশে ফিরে এসে বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করে। বাড়িতে কৃষি কাজসহ সংসারের কাজ করতো। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মান্দা উপজেলার সিংগীবাজারের অদূরে পচার মোড় থেকে মোজাহারুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। সেখানে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে নিয়ে কৈবর্ত্যপাড়া গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় তলায় তার শোবার ঘরে নিয়ে আসেন। এসময় বাড়ির কোনো সদস্যকে ওই ঘরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এরপর আবার তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১২টার দিকে আবারও বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ঘরের মধ্যে অস্ত্র আছে বলে বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে। তবে কোনো অস্ত্র না পাওয়ায় হাত-পা বেঁধে ও মুখে গামছা ঢুকিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতনের পর রাত ২টার দিকে গুরত্বর আহতাবস্থায় মোজাহারুলকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

naogaon

স্থানীয়রা আরও জানান, মোজাহারুল একটু আধটু নেশা করলেও কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। এমনকি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত না।

নিহতের স্ত্রী শামিমা আকতার, বড় ভাই আজাহারুল ইসলাম, ভাতিজি জান্নাতুন ফেরদৌস, প্রতিবেশী মারুফ আহমেদসহ প্রত্যক্ষদর্শী আরও অনেকে জানান, মেজর মুরাদ পরিচয়দানকারী র‌্যাব কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৮-১০ জন র‌্যাব সদস্য জিএসকে দোতালায় তার কক্ষে নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বেদম মারপিট করে। এ সময় জিএস এর আর্তচিৎকারে আশপাশের শতাধিক লোকজন সেখানে জড়ো হন। দফায় দফায় মারপিটে জিএস কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অস্ত্র উদ্ধারের নামে রাতেই গ্রামের কবরস্থান, আমবাগান, কলাবাগানসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায় র‌্যাব। রাত ১২টার দিকে আবারও তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে র‌্যাব। এসময় প্রতিবেশী আমিনুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান নামে দুই ব্যক্তিকে জিএসের দোতালার ঘরে নিয়ে ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে ছবি উঠিয়ে নেয় র‌্যাব। পরে রাত ২টার দিকে তারা জিএসকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে নিহতের মা জাহানার বেগম ছেলে হারানোর বেদনায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে শুধু কাঁদছিলেন আর বিলাপ করছিলেন। বিলাপ করে বলছিলেন ওরা আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে মারপিট করে। আমার সামনেই ওরা ছেলেকে পশুর মতো মারছে। মারপিট করেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোজাহারুলের বিরুদ্ধে থানায় এযাবৎ পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ নাই। র‌্যাব কিংবা নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের মেজর সাইদ অাব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, মোজাহারুল ছিল মাদকসেবী। তাকে ৮ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়। এছাড়া আরও তিনটি অস্ত্রছিল সেটির তথ্য উৎঘাটন করতে তার বাড়ি যাওয়া হয়। তাকে নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করা হয়। এরপর যখন তাকে নিয়ে ডকুমেন্টারি কাজ করার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছিল। পথিমধ্যে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌছার পর সে মারা যায়।

আব্বাস আলী/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।