টিউমারের ব্যথায় কাজ করতে পারি না, তাই ভিক্ষা করি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাম চোখের উপর দুই কেজি ওজনের টিউমার নিয়ে ১৪ বছর ধরে স্বাভাবিক মানুষের মতোই চলাফেরা করছেন মফির উদ্দীন বাবু (৩৫)।

তার বাড়ি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাংলা গ্রামে।

দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় অর্থের অভাবে আজও চিকিৎসা করাতে পারেননি মফির উদ্দীন বাবু।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর বয়সে ঢেঁকির ওপর বাবু পড়ে গিয়েছিল। এতে তার বাম চোখের ভ্রূ’র ওপর আঘাত পেয়ে স্থানটি ফুলে যায়।

কবিরাজি ও হাতুড়েসহ বিভিন্ন চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হয়নি। পরে আস্তে আস্তে সেটি বড় হতে থাকে। ফুলে উঠাটাই এখন তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন সেটি টিউমারে রূপ নিয়েছে। আর এই টিউমার নিয়ে এখন তিনি নেমেছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। তবে তার টিউমার দেখে বাড়িতে ছোট বাচ্চারা ভয় পায় বলে জানান তিনি।

এক ঘরবিশিষ্ট টিনের ছাপড়া ঘর তার। বারান্দায় তালপাতার ছাউনি। সেখানেই রান্না। ঝড়বৃষ্টিতে পানি পড়ে। একটি ঘর ছাড়া জমিজমা বলতে কিছুই নেই। এ ঘরেই তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। বড় ছেলে আশিক (১২), ছোট মেয়ে বাবলি (৯) ও তানিয়া (৩)।

একসময় কৃষিকাজ ও ভ্যান চালিয়ে জীবন চালাতেন বাবু। কিন্তু টিউমারটি যতই বড় হতে থাকে বাড়তে থাকে অসুবিধা। ভ্যান চালানোর সময় কষ্ট হতো। এতে কৃষিকাজ ও ভ্যান চালানো বাদ পড়ে যায়। সংসারে অভাব দেখা দিলে স্ত্রী পারভীন আক্তার অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। অবশেষে নিজেও নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃত্তিতে।

বাবুর চাচা তাজির উদ্দিন, প্রতিবেশী ইদ্রীস আলী ও মকলেছার রহমানসহ কয়েকজন বলেন, টিউমারটি অপারেশনের জন্য সে ভিক্ষা করে সামান্য কিছু টাকা সংগ্রহ করেছিল। আমরাও সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্ত আর হয়ে ওঠেনি।

jagonews24

মফির উদ্দীন বাবু বলেন, মানুষের কাছে হাত পাততে ভালো লাগে না। পরিবার ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। টিউমারটার ব্যথায় অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।

তিনি বলেন, কেউ যদি আমাকে সুস্থ করে তুলত আবারও কাজ করে খেতাম।

স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, স্বামীর এ অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়। তার যদি কেউ চিকিৎসা করায় তাহলে সে আবার কাজ করতে পারবে।

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন বলেন, তাকে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। আর্থিক অবস্থার কারণে তার পক্ষে হয়তো চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক টাকারও প্রয়োজন। তবে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো হওয়া সম্ভব।

প্রয়োজনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নম্বর: ০১৭৮০-১৬৮১৮১.

আব্বাস আলী/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।