চলমান বৃষ্টিতে দুর্ভোগে আশ্রিত রোহিঙ্গারা
শনিবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে কক্সবাজারসহ আশপাশের এলাকায়। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত বর্ষণকে তীব্রতা দিয়েছে। ফলে বাতাসের তোড়ে উড়ে গেছে অনেকের ঝুপড়ি ঘরের পলিথিনের চালা। এতে বৃষ্টিতে ভিজে পরিবার পরিজন নিয়ে অন্তহীন দুর্ভোগে সময় পার করছে উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং ক্যাম্প এবং আশপাশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, শনিবার রাত থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। মুষলধারে চলা বৃষ্টির পাশাপাশি শুরু হয় বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়া। এতে কুতুপালং ও বালুখালী এলাকায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা চরম দুর্ভোগে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলোও। রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল টানা বর্ষণ। এতে অনেক নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
রোববার সকালে বালুখালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়া অনেক পরিবার রাস্তার ধারে এসে অবস্থান নিয়েছে। বাতাসে পলিথিন ছিড়ে যাওয়ায় আরেকটি পলিথিন যোগাড়ে চেষ্টা করছিলেন তারা।

রাস্তায় এসে দাঁড়ানো মুহাম্মদ হোসেন (৩৮) নামে মিয়ানমারের আকিয়াব বলিবাজার এলাকার বাসিন্দা বলেন, কালকের রাতটা দুর্বিষহ গেছে। ঝড়ো হাওয়ার পলিথিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে কাক ভেজা ভিজেছি। শুধু আমি নয়, বালুখালী ক্যাম্পের প্রায় কয়েক হাজার ঝুপড়ি ঘরের একই দশা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কোথাও আশ্রয় না পেয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে আছি।
তিনি আরও জানান, বৃষ্টির সঙ্গে ভোগান্তি বাড়িয়েছে ক্ষুধা। বিগত চারদিন আগে বাংলাদেশে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ভাত দিতে পারেননি স্ত্রী ও ৫ সন্তানকে। চিড়া-মুড়ি ও বিস্কুট খেয়ে দিন পার করছে তারা। একই অবস্থা কুতুপালংসহ আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেয়া সিংহভাগ রোহিঙ্গাদের।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের রোহিঙ্গা বিষয়ক কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ বলেন, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে কাজ করছে প্রশাসন। সবার আবাসন নিশ্চিত করতে কয়েক হাজার শেড ঘর তৈরির কাজ চলছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সহযোগিতা সবার হাতে পৌঁছাতে চলছে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন। এটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একটু-আধটু অসামঞ্জস্যের কথা উঠতে পারে। এরপরও জরুরি ত্রাণ সহায়তা দিতে ১২টি টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম