দলীয় কোন্দলে বিভক্ত আশুগঞ্জ আ.লীগ


প্রকাশিত: ০৭:৩৫ এএম, ১৪ জুন ২০১৫

দলীয় কোন্দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগ ও তৃণমূল ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি কমিটি রয়েছে আশুগঞ্জে। তবে দুই কমিটির লোকজনের মধ্যকার কোন্দল নিরসনে ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হলেও কোন্দল নিরসনে তারা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের লোকজনদের মধ্যে প্রকাশ্যে কোন্দল শুরু হয়। ওই সম্মেলনে তৃণমূলের ভোটে সভাপতি পদে হাজী ছফিউল্লাহ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হানিফ মুন্সি বিজয়ী হন। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সম্মেলনে পরাজিত সভাপতি প্রার্থী হাজী ফিরোজ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের আহম্মেদ নির্বাচিত কমিটির বিরোধিতা শুরু করেন। এই দুইজন মিলে তৎকালীন সময়ে নির্বাচিত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত আবেদন জানায়।

সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার পক্ষে কাজ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হানিফ মুন্সি। আর বাকিরা  জেলার এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতার নির্দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তবে ওই নির্বাচনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বিজয়ী হয়েছিলেন। আর এ নিয়েই মূলত প্রকাশ্যে দলাদলি শুরু হয়।

এরপর একই বছর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চারজন নেতা দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য আবেদন করে। কিন্তু তৃণমূলের ভোটে দলীয় মনোনয়ন পান মো. হানিফ মুন্সি। নির্বাচনে যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন-এমন অঙ্গীকার করলেও বাকি ৩ জন কেউই তা মানেননি। এমনকি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতা দলীয় প্রার্থীর সরাসরি বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আনিছুর রহমানের পক্ষে কাজ করেন। এমনকি তৎকালীন সভাপতি হাজী ছফিউল্লাহ মিয়াও নির্বাচনকালীন দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. হানিফ মুন্সি পরাজিত হন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে দিয়েই একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে জেলা আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে পাল্টা একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।

বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগ ঘোষিত আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম চলছে হাজী মো. ছফিউল্লা মিয়ার নেতেৃত্বে আর অন্যটি চলছে তৃণমূল ঘোষিত হাজী মাহবুবুর রহমানের নেতেৃত্বে। দুই কমিটির লোকজন দলীয় কর্মসূচি এবং সভা-সমাবেশ করে থাকে। তবে দলীয় কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করায় ইতিমধ্যে আশগঞ্জ উপজেলা শহরে বেশ কয়েকবার ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র। আর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল নিরসনে উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সায়েদ লাল মিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সমন্বয় কমিটির সদস্য জিয়াউল করিম খান সাজু বলেন, দলীয় কোন্দল নিরসনে দুই কমিটির সাথে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।