বাবুগঞ্জে এতিমদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া মদিনা নগর সৈয়দ কুলসুম আলতাব এতিমখানায় এতিমদের ভুয়া তালিকা তৈরি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এতিমদের খাবার এবং পোশাক বাবদ লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯০ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ৫ জন এতিম দেখিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৩ জন এতিমর নামে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এতিমদের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টাকা বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় মন্ত্রণালয়। এতিমখানা কর্তৃপক্ষ দৌড় ঝাপ করে পুনরায় বরাদ্দ চালু করে ২০১৪ সালে।
২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২ জন করে এতিম দেখিয়ে ফের ২২ হাজার টাকা উত্তোলন করে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, এতিমখানা একটি সাইন বোর্ড ছাড়া এখন তার আর কোন কার্যক্রম নেই। ১৯৯০ সালে ৫ জন এতিমের তালিকা দেখিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু ৩ থেকে ৪ জন এতিম ছাড়া কোন সময় এতিমদের থাকতে দেখেনি তারা। এছাড়া কয়েক বছর এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ১০ জন করে এতিম দেখিয়েও টাকা আত্মসাৎ করে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে এতিম খানার সম্পাদক হাফেজ আলী আকাব্বার জানান, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন স্থানে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন পেতে হলে উৎকোচ ছাড়া অনুমোদন পাওয়া যায়না। বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ওই সব জায়গায় খরচ হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কামাল হোসেন জানান, অনিয়মের কারণে ২০০৫ সালে ওই এতিম খানার অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় মন্ত্রণালয়। পরে তারা পুনরায় বরাদ্দ চালু করে। এবারও তারা আগের মতো কিছু করে থাকলে খোঁজ নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সাইফ আমীন/এসএইচএস