জুলাই সনদ-গণভোটের বৈধতা নিয়ে রুল শুনানি ১৭ জুন
গণভোট ও এর ফলাফল, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানির জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৮ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে আদেশ দেন।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গণভোট ও এর ফলাফল, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার অধ্যাদেশ ২০২৫) বাস্তবায়ন আদেশ ও এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় সংসদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এসব বিষয়ে করা পৃথক দুটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৩ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জেরে ওই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ও দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ সই হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই জাতীয় সনদ।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়। সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি রিট করেন।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম ১৭ ফেব্রুয়ারি অপর রিটটি করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গণভোট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এসব কারণে গণভোটের ফলাফল যথাযথ ও বৈধ নয় বলে দাবি করা হয়। রিটকারীর দাবি, হাইকোর্ট যেন গণভোটের ফলাফল বাতিল করে দেন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন।
রিটে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিতে এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও অনিয়মগুলো বিবেচনা করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। রিটে আরও বলা হয়, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এফএইচ/ইএ