কুমিল্লায় ছাত্রলীগ নেতার হামলায় আহত যুবলীগ নেতার মৃত্যু
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইভটিজিংয়ে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতার হামলায় আহত যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাবিবুর রহমান উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। অপর দিকে মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি আতিকুল ইসলাম আজাদ দক্ষিণ সোনাপুর গ্রামের আলী এরশাদের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান জগন্নাদীঘি ইউনিয়নের কাকৈরখোলা কমিউনিট ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আতিকুল ইসলাম আজাদ এবং তার সহযোগী মোতালেব হোসেন, মো. ইয়াছিন, ছালেহ আহমেদ সুবজ কর্তৃক স্থানীয় মেয়েদেরকে ইভটিজিংয়ে বাধা দিয়ে আসছিলেন।
এনিয়ে হাবিবের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল তারা। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হাবিব তার বন্ধু এমদাদুল হক জুয়েল ও নবী হোসেনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে চৌধুরী বাজার যাচ্ছিলেন। এ সময় উপজেলার নারানকরা দক্ষিণ পাড়ায় রাস্তার উপর ছাত্রলীগ নেতা আজাদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাদের গতিরোধ করে। পরে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাবিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা আহত হাবিবকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত হাবিবের ভাই কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা আজাদ, মোতালেব, ইয়াছিন ও ছালেহ আহমদ সবুজসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফয়সাল জানান, নিহত হাবিবের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত ছালেহ আহমদ সবুজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
কামাল উদ্দিন/আরএআর/আরআইপি