পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুন : ৩ মাস পর মরদেহ উদ্ধার


প্রকাশিত: ০৬:০০ এএম, ১৮ জুন ২০১৫

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হলেন দিনমজুর স্বামী আলামীন শেখ ওরফে আলম সাধু (৫৫)। ঘটনার ৩ মাস পর ঘাতক স্ত্রী ফাতেমার দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। ২ মেয়ে ও ২ ছেলে সন্তানের বাবা আলামীন শেখ মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়নের কুমারীয়াজেলা গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার রাতে ঘাতক স্ত্রী ফাতেমা বেগমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের ঘরের পাশে কাঁচা গোসলখানার নিচে মাটি চাপা দেয়া আলামীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা গুপ্তি (ধারালো ছুরি) ও আলামিনের পরিদেহ রক্তমাখা ছেড়া লুঙ্গি।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্য সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর আলামিন শেখ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতেন। ফলে ১০/১৫ দিন পরপর তিনি দুরবর্তী স্থান থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতেন। ১৬ মার্চ স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে খুন হবার আগে আলামিন ঢাকায় ১৫ দিন দিনমজুরের কাজ শেষ করার পর  ১৬ মার্চ গ্রামের বাড়ি পৌঁছান। ওই দিন রাতেই  আলামিন শেখকে তার স্ত্রীর ৪ সন্তানের জননী ফাতেমা বেগম নিজ হাতে ধারালো গুপ্তি দিয়ে হত্যা করেন। মরদেহ গোসল খানার নিচে গর্ত খুড়ে পুঁতে রাখেন।  

জানা গেছে, স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে দীর্ঘ দিন ধরে গ্রামের প্রতিবেশী মুজিবর রহমানের ছেলে রফিকুল ফরাজির সঙ্গে ফাতেমার পরকীয়া সর্ম্পক গড়ে ওঠে। আর সে কারণেই আলামিনকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের পাশে কাঁচা গোসলখানার নিচে গর্ত খুড়ে মাটি চাপা দেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুপ্তি ধুয়ে ফেলাসহ আলামীনের গায়ের রক্তমাখা গেঞ্জি ধ্বংস করেন খুনি ফাতেমা ।

বুধবার মোড়েলগঞ্জ থানায় ফাতেমার ছেলে-মেয়ের সন্দেহের ভিত্তিতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  (উপসহকারী) তারেক বিশ্বাস ও নারী পুলিশ সদস্যের জেরার এক পর্যায়ে ৩ মাস আগে কিভাবে তার স্বামীকে হত্যা করেছেন তা প্রকাশ করেন ফাতেমা। নিজেই দেখিয়ে দেন স্বামীর মরদেহ কোথায় রেখেছেন। বুধবার রাতে ফাতেমার দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকেই পুলিশ উদ্ধার করেন ৩ মাস আগে খুন হওয়া আলামিনের গলিত মরদেহ। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ধারালো গুপ্তি ও আলামিনের পরিদেহ ছেড়া লুঙ্গি।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, দিনমজুর আলামিন শেখ গত ১৬ মার্চ বাড়িতে আসেন। ওই রাতেই তিনি তার স্ত্রীর হাতে খুন হন। এ অবস্থায় ঘটনার ১৫ দিন পর আলামিনের ভগ্নিপতি মোশারেফ হোসেন খোঁজ নিতে আলামিনের স্ত্রী ফাতেমার কাছে ফোন করেন। তখন ফাতেমা ভগ্নিপতি মোশারেফকে জানান আলামিন দূরে কোথাও যাবেন তাই তার ফোন কয়েক দিন বন্ধ থাকবে বলে বাড়িতে বলে গেছেন। বিষয়টি আলামিনের বড় ছেলে চট্টগ্রামে ফার্নিচার তৈরি কাজে কর্মরত মোহাম্মদ আলীকে জানানো হয়। ১৫ দিন ধরে তার বাবার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বিষয়টি মোহাম্মদ তাদের অপর বিবাহিত দুই ছোট বোন রহিমা, হাওয়া এবং বাড়িতে থাকা ৭ বছরের ছোট ভাই সেফাতুল্লাহকে অবহিত করে। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী ঢাকার গিয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় ২ এপ্রিল তার বাবা আলামিন শেখ নিখোঁজ রয়েছেন এমন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

একসময়ে মা ফাতেমার কর্মকাণ্ডের ফলে সন্তান মোহাম্মদ আলীসহ অন্যদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। ১৬ জুন বুধবার এ অবস্থায় দুপুরের দিকে মোহাম্মদ আলীসহ অন্যরা মোড়েলগজ্ঞ থানায় গিয়ে তার বাবা আলামিন শেখ নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করে কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র ওসির কাছে দেন। পরে মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত ) তারেক বিশ্বাস ও নারী পুলিশ সদস্যরা সবকিছু শুনে আলামিনের বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে ফাতেমাকে জেরা শুরু করলে তিনি অপকটে তার স্বামীকে ধারালো গুপ্তি দিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেন।

শওকত আলী বাবু /এমজেড/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।