সাঁওতালদের মামলায় আসামি ধরতে গিয়ে ৪ পুলিশ আহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৭:৪৩ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৭

সাঁওতালদের দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আহতরা হলেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক ও প্রভাত চন্দ্র বর্মন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহ জালাল ও কনস্টেবল বজলু রহমান।

এজাহারভুক্ত আসামি শাহ আলম সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তাকে গ্রেফতার করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে পিবিআই।

গাইবান্ধা পিবিআই ও গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের মালিকানাধীন সাপমারা ইউনিয়নে অবস্থিত সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় শাহ আলম জড়িত ছিল। এ ঘটনায় সে বছরই ২৬ নভেম্বর সাঁওতালদের পক্ষ থেকে থমাস হেমরম ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় শাহ আলম এজাহারভুক্ত আসামি।

রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এসময় শাহ আলমকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে তার সমর্থকরা। পরে পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের ৪ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পিবিআইয়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গাইবান্ধা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া মুঠোফোনে সোমবার দুপুর ১২টায় জাগো নিউজকে বলেন, সাঁওতালদের পক্ষে থমাস হেমরমের দায়ের করা মামলায় শাহ আলম এজাহারভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারিকাজে বাঁধাদানের জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ও সাপমারা ইউনিয়নের সাঁওতাল ও বাঙালিদের কাছ থেকে ১৯৬২ সালের ৭ জুলাই ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি কিনে নেয় রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। পরে শর্তভঙ্গের অভিযোগ তুলে বাপ-দাদার জমি ফেরতের দাবি করে তারা বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত বছরের ১ জুলাই সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকায় চিনিকলের সেসব জায়গা দখল করে ঘর তৈরি করে সাঁওতালরা।

পরে ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ কাটতে গেলে সাঁওতাল-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন সাঁওতাল মারা যান ও তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হয় পুলিশসহ প্রায় ২০ জন। ঘটনার পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও সাঁওতালদের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

রওশন আলম পাপুল/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।