কচুয়ায় ফসলি জমি থেকে বালু-মাটি উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৪০ এএম, ১২ অক্টোবর ২০১৭

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বসতঘরও হুমকির মধ্যে রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন প্রায় ৬ শতাধিক অবৈধ ড্রেজার উপজেলার বিভিন্ন আবাদি জমি গর্ত করে মাটি উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী মহল।

এদের বার বার মাটি উত্তোলন না করার জন্য প্রশাসন থেকে নিষেধ করা হলেও কর্ণপাত করছেন না। বরং আবাদি জমিতে মাটি উত্তোলন করে বিশাল সুড়ঙ্গ করে ফেলেছেন তারা। সেই সঙ্গে আশপাশের বসতঘরও হুমকির মুখে পড়েছে।

এই মুহূর্তে এদের বিরুদ্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না নিলে কচুয়ায় এক সময় আবাদি জমি আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে ফসল উৎপাদন। সেই সঙ্গে ওই এলাকায় দেখা দেবে চরম খাদ্য সঙ্কট। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি, এমনকি খোদ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে। তারপরও ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

Chandpur-8

চাঁদপুরের বৃহৎ কচুয়া উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এই উপজেলার সর্বত্র ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে অবাধে চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন। কতিপয় ড্রেজার ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক নেতা ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কচুয়া উপজেলায় ৬০৭টি ড্রেজার মেশিন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কৃষি আবাদি জমি ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে কৃষি জমি ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা আফরোজ জাগো নিউজকে বলেন, যেখানে ড্রেজার মেশিন চলবে, সেখানেই জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ড্রেজার মেশিন মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের ভয়ে মুখ খুলছেন না। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অবাধে ড্রেজার মেশিন দিয়ে আবাদি জমির মাটি কাটা হচ্ছে।

Chandpur-9

তারা জানান, ড্রেজার মেশিন মালিকরা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করে। খুব গভীর থেকে মাটি উত্তোলন করায় আশেপাশের জমি ভেঙে পড়ায় জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে ওই ড্রেজার মালিকের কাছে কম দামে কৃষি জমি বিক্রি করে দেন।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলীমা আফরোজ বলেন, কচুয়ায় অবৈধভাবে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেও মাটি উত্তোলন কমাতে পারছি না।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ হোসেন বলেন, অবৈধভাবে যেখানেই বালু উত্তোলন হচ্ছে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইকরাম চৌধুরী/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।