পেকুয়ায় অপহৃত কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ইয়াসিন আক্তার (১৪) নামে অপহৃত এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর স্বজনরা অপরহণকারী যুবককে আটক করে পেকুয়া থানায় সোপর্দ করলেও সাত ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়।
নিহত কিশোরী ইয়াসমিন আক্তারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দেড়মাস আগে ইয়াসমিন আক্তারকে অপহরণ করে আত্মগোপনে চলে যায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮)। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। গত দেড় মাসে কেউ ওই কিশোরীর হদিস না পেলেও শুক্রবার সকালে ওই কিশোরীকে নিয়ে বোনের বাড়িতে হাজির হন স্বয়ং অপহরণকারী।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে সেখানে রেখে কেটে পড়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবক সাইফুল ইসলাম। কিন্তু কিশোরীর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আহসান হাবিবের জিম্মায় দেয়। পরে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরী মারা গেলে আটক সাইফুল ইসলামকে পেকুয়া থানায় সোপর্দ করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ কিশোরীর পরিবারকে সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়ে কৌশলে কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত আটক যুবককে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন পেকুয়া ও উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চারজন মেম্বার। তারা হলেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাজ্জাদ হোসেন, ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহনেওয়াজ আজাদ, উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার আহসান হাবিব ও ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ওসমান গণি।
তবে এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি যুবকটিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া চার ইউপি সদস্যরা। তারা থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় আটক যুবককে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে কিশোরীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস