স্থানীয়দের চাকরি দিতে এমপি বদির হুঁশিয়ারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সীমান্তের দু’উপজেলায় স্থানীয়রা এখন সংখ্যালঘু উল্লেখ করে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি বলেছেন, ক্যাম্পে চাকরির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ এখানকার মানুষ নিজেদের অসুবিধায় ফেলেই নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এতে স্বাভাবিক চলাফেরাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অধিক মূল্য গুনতে হচ্ছে এখানকার অধিবাসীদের। এ কারণে অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে এখন আর্থিকসহ নানা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই স্থানীয় শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের যোগ্যতামাফিক চাকরিতে অগ্রাধিকার না দিলে কোনো এনজিও প্রতিষ্ঠানকে উখিয়া-টেকনাফে কাজ করতে দেয়া হবে না। এর বিপরীতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হলেও দুঃখ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি বদি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সাংসদ আবদুর রহমান বদি আরও বলেন, উখিয়া-টেকনাফ আমার এলাকা। এখানকার মানুষ যাতে অধিকারবঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা নানা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর এক কিলোমিটারের মধ্যে যেসব স্থানীয় মানুষ রয়েছে তাদের ভিজিএফ এর আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য পরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রয়োজন। নচেৎ শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নিতে পারে। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে নানা রোগ। তাই এখন থেকে এ বিষয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। উদ্ভট দুর্গন্ধ রোধে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নিয়মিত ওষুধ দিতে হবে।

তিনি উখিয়া-টেকনাফের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার বরাবর জীবন বৃত্তান্ত দেয়ার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ারুল নাসেরের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল আনোয়ারুল ইসলাম ও কক্সবাজার পৌসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। এসময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বের এবং চলমান সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের উপলক্ষ করে উখিয়া-টেকনাফের অর্ধডজনাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে অসংখ্য জিও-এনজিও এবং আন্তর্জাতিক নানা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, আবাসনসহ জীবন সম্পর্কিত নানা প্রকল্প নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছে কয়েক হাজার কর্মকর্তা ও কর্মী। কিন্তু এখানে অধিকাংশই নিয়োগ পান বিদেশিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। স্থানীয় শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা আবেদন দিলেও অধিকাংশ সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাদের চাকরিতে নেয়া হয় না। এনিয়ে ইতোমধ্যে একাধিকবার মানববন্ধনসহ স্মারকলিপি দিয়েছে স্থানীয় বঞ্চিতরা। এরা প্রায় সময় এমপি ও স্থানীয় অন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে এনিয়ে বার বার ধর্ণা দেন। এ কারণে সাংসদ বদি ক্যাম্পে কাজ করতে অনুমতি পাওয়া জিও-এনজিও এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ৮০ শতাংশ হারে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।