সিলেটে ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা আদালতে জমা দিলেন মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

সিলেট মহানগরের ফুটপাত দখলদার ও তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে ১৬ জনের নামের তালিকা আদালতে জমা দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরুর আদালতে এ তালিকা জমা দেন তারা।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, আমরা ১৫-১৬ জনের একটি তালিকা বেলা ১১টার দিকে আদালতে জমা দিয়েছি। হকার উচ্ছেদের স্বার্থে এ তালিকার নাম প্রকাশ করার জন্য আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের এপিপি মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক তালিকা জমা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সিলেট একটি আধ্যাত্মিক ও পবিত্র নগরী। আর এ নগরে দলমত ও ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নগরীর রাস্তা-ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সিলেট সিটি মেয়র ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও এ অভিযানে আদালত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে।

এর আগে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ফুটপাত দখলদারদের তালিকা জমা দিতে না পারায় ১৬ অক্টোবর তাদের আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো। গত ৭ অক্টোবর আদালত এ আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে মেয়রকে নির্দেশ দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। এ ক্ষেত্রে মেয়রকে সহযোগিতার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকেও নির্দেশ দেন আদালত।

এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মে নগরের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসিক। এ বৈঠকের পর গত ১ জুন থেকে নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিসিক। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সে অভিযানে ভাটা পড়লে অবৈধ দখলদাররা ফিরে আসে।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলকারী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়নি সিসিক।

গত ৮ জুন মেয়র প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তাকে এক মাসের সময় দেয়া হয়। এরপর আরও তিন মাস অতিবাহিত হলেও মেয়র প্রতিবেদন দাখিল করেননি। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন আদালতের আদেশ মেনে প্রতিবেদন দাখিল করছেন না- তার ব্যাখ্যা দিতে মেয়রকে তলব করেন বিচারক।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।