পদ্মায় মাছ ধরায় ৮৬ জনের সাজা
সরকারি আইন অমান্য করে চার জেলায় পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার করায় মোট ৮৬ জনের সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় মোট ১৯০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে শরীয়তপুরের ৪৫, ফরিদপুরের ১৩ ও রাজবাড়ীর ২৮ জেলেকে আটক করা হয়। এছাড়া মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ৪৫ জেলেকে জেল জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জালসহ ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আটক ৪৫ জনের মধ্যে ৩৬ জনকে দণ্ডিত করা হয় ও ৯ জনকে জরিমানা করে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন নড়িয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার গোলাম মোস্তফা, নড়িয়া থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা ইয়াসমিন নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
এদিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মা ইলিশ নিধনের দায়ে ১৩ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এসময় জেলেদের কাছ থেকে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও দেড় মণ ইলিশ জব্দ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের দায়ে আটক ১৩ জেলেকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট মতিয়ার রহমান।
এছাড়া রাজবাড়ী সদরের মা ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ২৮ জেলেকে অাটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ অাদালত। এ সময় ৪৩ হাজার মিটার জাল ও ৬০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদু্ল ইসলাম ও শাহ মো. সজিব ভ্রাম্যমাণ অাদালতের মাধ্যমে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে ও দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল অাশরাফী ১০ জেলেকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জেলা মৎস্য অধিদফতর, জেলা প্রশাসন ও ২৪ ব্যাটালিয়ান অানসার সদস্যরা নদীতে এ অাভিযান পরিচালনা করেন।
অপরদিকে মুন্সিগঞ্জের সদর ও শ্রীনগর উপজেলায় দুটি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৬০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার মধ্যে রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে সমুদয় মাছ জব্দ করা হয়।
এফএ/জেআইএম