রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে সমাজকল্যাণ অধিদফতর। এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় সমাজসেবা অধিদফতর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উখিয়া টেকনাফে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শুক্রবার উখিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এটুআই প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার।

এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শিশুরা সর্বস্ব হারিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এতিম শিশুদের পাশে দাড়িয়েছে। তাই রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের নিবন্ধন করতে হবে। যাতে এতিম শিশুরা হারিয়ে যেতে না পারে।

কবির বিন আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের সুরক্ষায় সরকার ২শ একর জায়গা বরাদ্দ রেখেছে। ওই জায়গার উপর এতিম শিশুদের রাখা হবে। সেখানে তাদের পড়ালেখা, বিনোদনসহ বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবধা রাখা হবে। যাতে করে এতিম শিশুরা তাদের সংরক্ষিত ক্যাম্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বাইরে যেতে আগ্রহী না হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক কাজী আবদুর রহমানের উপস্থিতিতে মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ৫০ জন সেচ্ছাসেবককে ৫০টি মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও টি শার্ট প্রদান করেন। এর আগে ৪০জন কর্মী রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের উপর জরিপ কাজ শুরু করে।

উদ্বোধনী অনুষ্টানে সমাজ সেবা অধিদফতরে কক্সবাজারের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা নিকারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা এতিম শিশু ভবঘুরে ছিন্নমূল পরিবেশে কারও না কারও আশ্রয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক জান্তার দমন নিপীড়ন, জ্বালাও-পোড়াও, খুন, জখম, ধর্ষণসহ নির্বিচারে গুলি বর্ষণের ঘটনায় এসব অবুঝ শিশুরা পিতৃ ও মাতৃ স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাড়া প্রতিবেশী বা স্বজনদের হাত ধরে তারা এপারে চলে আসে। বাংলাদেশ সরকার এসব এতিম শিশুদের আলাদাভাবে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে মাঠ পর্যায়ে জরিপ কাজ শুরু করেছে।

রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের তালিকাভুক্ত কার্যক্রমের সমন্বয়কারী প্রীতম কুমার চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা এতিম শিশুর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সকল এতিম শিশুকে সমাজ সেবা অধিদফতরের পক্ষ থেকে পরিচয় পত্র দেয়া হবে।

তিনি বলেন, এসব শিশুদের আলাদা ভাবে পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ২শ একর জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, এতিম শিশুর সুরক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য ২শ একর জমি বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবাসস্থল নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।