শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩০ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৭
প্রতীকী ছবি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নন্দনপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদরাসার কৃষি বিষয়ের শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০ জন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে সম্প্রতি ওই মাদরাসার আট জন ছাত্রী মাদরাসা সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ওই শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ২৪ জন ছাত্রী মাদরাসা না আসার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদরাসা ছুটি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মাদরাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমাম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে নন্দনপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদরাসায় ইমাম হোসেন যোগদান করেন । তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের খানপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। শুরু থেকেই তিনি ছাত্রীদেরকে মাদরাসার পাশের এক বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর নামে যৌন হয়রানি করছিলেন। গত তিন মাস ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। শিক্ষকের যৌন হয়রানির বিষয়টি ছাত্রীরা একাধিকবার মাদরাসা সুপারকে জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি। সম্প্রতি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির আট ছাত্রী এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে। এতে শিক্ষক ইমাম হোসেনকে ১০ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেন সুপার। এরপর ইমাম হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। ১২ অক্টোবর তিনি শোকজের জবাব দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন ছাত্রী জানায়, শিক্ষক ইমাম হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর কক্ষে কৌশলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। তিনি অন্তত ২৮-৩০ জন ছাত্রীর সঙ্গে চরম অশোভনীয় আচরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেন ওই শিক্ষক।

মাদরাসার সুপার মো. আতিকুর রহমান বলেন, শিক্ষক ইমামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে দুই বার তাকে শোকজ করা হয়েছে। জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার দুপুরে মাদরাসা ছুটি দেয়া হয়।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি লজ্জাজনক।এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভা করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ছাত্রীদের অভিভাবকরা থানায় এখনো আসেনি । তাদের লিখিত অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।