বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৭

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এক কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সাতদিন পরই তার অন্যত্র বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। রোববার দুপুরে উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের সরফদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বৃষ্টি আক্তার (১৫) ওই গ্রামের দিনমজুর রমজান আলীর মেয়ে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত ঘাতক একই গ্রামের মৃত হাসমত আলীর ছেলে আবুল ফকির (৪৫)।

নিহতের মা আকলিমা বেগম জানান, আবুল ফকির তাদের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করতেন। এক পর্যায়ে মেয়ের প্রতি দৃষ্টি পড়ে বাবার বয়সী আবুল হোসেনের। বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখান করা হয়। এরপর থেকেই তাকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করা হয়। তারপরও রাস্তা ঘাটে উত্ত্যক্ত করা হতো।

ফলে বাধ্য হয়ে হরিরামপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে বৃষ্টির বিয়ে ঠিক করা হয়। আগামী সোমবার (১৩ নভেম্বর) তাকে তুলে নেয়ার কথা ছিল।

তিনি জানান, রোববার দুপুরে তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করতে যান। মেয়ের বিয়ের বিষয়টি জানাতে তিনি যান বাবার বাড়ি। এ সময় বৃষ্টি একা বাড়িতে ছিল। এ সুযোগে আবুল ফকির বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তিনি ঘাতক আবুল ফকিরের বিচার দাবি করেন।

বৃষ্টির বাবা রমজান আলী জানান, মেয়েকে হত্যার পর আবুল তার বাড়ি থেকে দৌড়ে বের হওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন দেখেছেন। গলাকাটার পর তার মেয়ে প্রাণে বাঁচার জন্য প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশেই মৃত্যু হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস করেন দিনমজুর রমজান আলী। ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ। বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে হতভাগ্য বৃষ্টির মরদেহ। স্থানীয়দের ধারণা, গলাকাটার পর বৃষ্টি দৌড়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পথের সামনেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, আবুল হোসেন পেশায় গ্রাম্য ফকির। পাশাপাশি রিকশাও চালাতেন। ২ ছেলে এবং ১ মেয়ের জনক তিনি। তার সব ছেলে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও পলাতক রয়েছেন।

মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আবুল হোসেনকে দ্রত গ্রেফতার করে দৃটান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

হরিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে আবুল হোসেনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

বি.এম খোরশেদ/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।