ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের অভিনব প্রতারণা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১০:৩১ এএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৭

সবক্ষেত্রে সরকার যখন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ প্রকৃত তথ্য প্রচারে সফল, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের কৃষি বিভাগ একটি ভুয়া প্রদর্শনী দিয়ে অধিক হারে ফসল উৎপাদন করার অভিনব কৌশল হাতে নিয়েছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈলকুপার খালকুলা রোডে নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে আব্দুল খালেক নামে এক কৃষকের জমিতে লাগানো ধানিগোল্ড নামের একটি উচ্চ ফলনশীল ধানের জমিকে বিআর ৪৯ জাত হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রদর্শনীর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

নবনির্মিত শৈলকুপা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এক একরের একটি প্লটে যেকোনো কারণে লাগানো হয় বিআর ৫৯ জাতের ধান। উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় তা তরতর করে বেড়ে ওঠে চোখে পড়ার মতো।

উদ্দেশ্যমূলক ওই ধানিগোল্ডের প্লটে ঝুলিয়ে দেয়া হয় ৫৯ জাতের ধানের প্রদর্শনীর সাইনবোর্ড। প্রথমদিকে সাধারণ কৃষকরা বিষয়টি না বুঝলেও ধানের শীষ বড় হওয়ার পরেই বিষয়টি সবার নজরে পড়ে।

এ ব্যাপারে কৃষকের বক্তব্য, কৃষি বিভাগের পরামর্শেই ওই প্লটে তিনি ধানিগোল্ডের চারা লাগিয়েছেন। যেহেতু ফ্লটটি প্রদর্শনীর, ওখানে তার ব্যক্তিগত কোনো হাত নেই। এক একরের প্লটের জন্য তিনি ১ কেজি বীজ এবং বেশ কিছু সারও পেয়েছেন কৃষি বিভাগ থেকে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডুর সঙ্গে কথা বললে তিনি কৃষক আব্দুল খালেকের প্লটে বিআর ৪৯ জাতের বদলে ধানিগোল্ডের চারা লাগানোর কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, হয়তো কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মী বিষয়টি বুঝতে পরেননি। উপজেলার আপর একটি প্লটেও অনুরূপ সমস্যা হয়েছে।

ওই অফিসের অপর এক কর্মকর্তা কৃষক আব্দুল খালেকের জমিতে বিআর ৪৯ জাতের বদলে ধানিগোল্ডের চারা লাগানোর কথা স্বীকার করে বলেন, কৃষকের ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীই দায়ী নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ঝিনাইদহ জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ২৭০ কৃষককে প্রতিটি এক একরের রোপা আমনের প্রদর্শনী হয়েছে।

এর মধ্যে শুধু শৈলকুপাতেই ৬০টি প্লট বরাদ্দ রয়েছে। প্রদর্শনী প্লটের আওতায় বিআর ৫৯, বিআর ৫১ ও ৫২ এবং বিনা-৭ জাত থাকলেও উচ্চ ফলনশীল ধানিগোল্ড নেই।

প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটের জন্য ১ কেজি বীজ ও প্রয়োজনীয় সার দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (যিনি ব্লক সুপারভাইজার হিসেবে পরিচিত) তিনি প্রদর্শনী প্লটের সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবহিত নয়।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।