বাফার গোডাউনে শ্রমিকদের ধর্মঘট, আনলোড বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৬:৪১ এএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৭

তিনদিন ধরে গাইবান্ধা সরকারি বাফার সার গুদামের শ্রমিকদের ধর্মঘটে সার আনলোড বন্ধ রয়েছে। গুদাম শ্রমিকদের অভিযোগ, গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার চৌধুরী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা সার গোপনে তার পছন্দের ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গুদামের শ্রমিক, ট্রাক মালিক, চালক ও হেলপাররা। এর প্রতিবাদে তারা ধর্মঘট শুরু করেছেন।

কিন্তু ধর্মঘটের কারণে গুদাম চত্বরে ১৫টি সারবোঝাই ট্রাক আটকে আছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সেইসব ট্রাকের মালিক, চালক ও হেলপাররা। এনিয়ে গুদাম শ্রমিকরা বুধবার বিসিআইসি চেয়ারম্যানকে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

গাইবান্ধা সরকারি বাফার সার গুদাম সূত্র জানায়, গাইবান্ধা শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অবস্থিত সরকারি বাফার সার গুদামে বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। এই সার সিলেট, চট্টগ্রাম ও বাঘাবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকযোগে আনা হয়। এখানে স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে ট্রাক থেকে সার আনলোড করে গুদামে মজুত করে রাখা হয়। পরে গুদাম থেকে তালিকাভুক্ত জেলার ডিলাররা সার উত্তোলন করে কৃষকদের কাছে খুচরা বিক্রি করেন।

কিন্তু গুদামের শ্রমিকদের অভিযোগ, এই গুদামের প্রায় ৬০ জন স্থানীয় শ্রমিক ট্রাক থেকে সার লোড-আনলোড করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু গত একবছর ধরে গাইবান্ধা সরকারি বাফার গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার চৌধুরী তার পছন্দের ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজস করে গোপনে গুদামে সার না এনে সরাসরি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রাক চালক ও শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে ভাড়া থেকে। এছাড়া এ জেলার জন্য বরাদ্দকৃত সার অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্প্রতি তাদের নজরে আসে।

এবিষয়ে দক্ষিণ ধানঘড়া সার গুদামের (বাফার) সার আনলোড লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বাধ্য হয়ে আমরা গত মঙ্গলবার ভোর থেকে সার আনলোড বন্ধ করে দেই। এনিয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যানকে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা বাফার সার গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার চৌধুরী যোগসাজসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সারের চাহিদা বেড়ে গেলে মাঝে মাঝে কিছু ট্রাক সরাসরি ডিলারের কাছে পাঠানো হয়। তবে কাজ না করলেও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

রওশন আলম পাপুল/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।