কেশবপুরে ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
যশোরের কেশবপুরে গভীর রাতে তল্লাশির নামে পুলিশ পরিচয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয়ার অভিযোগে তিন দারেগাসহ ৫ সদস্য ও এক সোর্সের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার উপজেলার আটন্ডা গ্রামের বজলুর রহমান মোড়লের স্ত্রী আয়েশা বেগম যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি করেছেন। যার নং- ৩৪০/১৭।
মামলার আসামিরা হলেন, এসআই মুজাহিদুল ইসলাম, এএসআই আশরাফুল ইসলাম, এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেন, কনস্টেবল সালাউদ্দীন, ড্রাইভার মো. মজনু ও পুলিশের কথিত সোর্স উপজেলার বাগদা গ্রামের মৃত করিম মোড়লের ছেলে ফজলুর রহমান।
তবে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আনোয়ার হোসেন জানান, মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশ তার বাড়িতে গিয়েছিল। সে অসুস্থ থাকার কারণে আটক করা হয়নি। কিন্তু জাহাঙ্গীরের মা আয়েশা বেগম পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কেশবপুর উপজেলার আটন্ডা গ্রামের বজলুর রহমান মোড়লের ৩ ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম ভাড়াই চালিত মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এছাড়া জাহিদুল ইসলাম পুরানো মোটরসাইকেল বেচাকেনার ব্যবসায় জড়িত।
পুলিশের কথিত সোর্স ফজলুর রহমান প্রায় সময় জাহিদুল ইসলামের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করত। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় গত ৬ নভেম্বর রাত পৌনে ২টার দিকে ওই সোর্সের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরিহিত থানার এসআই মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ পুলিশ মামলার বাদী আয়েশা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। এসময় ওই পুলিশ সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র ও মাদক তল্লাশির নামে ঘরের ভেতর ঢুকতে গেলে আয়েশা বেগম বাধা দিলে তার চুল ধরে মাটিতে ফেলে লাথি মারতে থাকেন।
এক পর্যায়ে বাদীর তিন ছেলের মাথায় এএসআই আশরাফুল, এএসআই জাহাঙ্গীর ও কনস্টেবল সালাউদ্দীন পিস্তল ঠেকিয়ে তাদের জিম্মি করে মোটরসাইকেল বিক্রি করা নগদ দুই লাখ ১০ হাজার টাকাসহ তিন লাখ টাকা মূল্যের ছয়ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে ক্রসফায়ারের হত্যা করার হুমকি দিয়ে ওই পুলিশ সদস্যরা চলে আসে। সকালে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি। এরপর আয়েশা বেগম আদালতে মামলা করেন।
মিলন রহমান/এফএ/আইআই