হাসপাতালটি ‘অসুস্থ’, আতঙ্কে ডাক্তাররা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

দীর্ঘ দেড়মাস ধরে অজানা জীবাণুতে আক্রান্ত পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ। ফলে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হচ্ছেন রোগীরা। সেই সঙ্গে ডাক্তারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

একই সঙ্গে অজানা এই জীবাণুর ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সব কাজ বারান্দায় বসে করা হয়। সংশ্লিষ্টারা বলছেন, সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু গত দেড় মাসেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গলাচিপা উপজেলায় প্রায় চার লাখ লোকের বসবাস। সবাই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চিকিৎসা করাতে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন রোগীরা।

Galacipa-Hospital

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসতেন। কিন্তু বুধবার রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৫। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এর সংখ্যা ৩০ জনে নেমে আসে। গত মঙ্গলবার
বিষয়টি পটুয়াখালী সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।

কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গলাচিপা পৌরসভার কলেজ রোড এলাকার মো. রুবেল। তিনি বলেন, হাসপাতালটি নিজেই এখন অসুস্থ। আমি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে আমার সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। ক্ষত স্থান শুকাচ্ছে না কিছুতেই। বাসায় অন্য ডাক্তার এনে চিকিৎসা করিয়েছি। তাতেও কাজ হচ্ছে না। আমার ক্ষত স্থানে জীবাণু রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওলজি মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে আমার বাম হাতের আঙুলের নখে ব্যথা শুরু হয়। তারপর ওখানে অজানা জীবাণুর সংক্রামণে ক্ষত হয়। চিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে ওষুধ খেয়েও এখন পর্যন্ত সুস্থ হতে পারিনি।

Galacipa-Hospital

তিনি বলেন, মূলত এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জীবাণু আক্রমণ করেছে। প্রতিদিন কাজের তাগিদে জরুরি বিভাগ আসা-যাওয়া করতে হয়। এখানে কর্মরত আমরা সবাই আতঙ্কে রয়েছি। অন্যত্র বদলি হয়ে যেতে পারলে বেঁচে যেতাম। জানি না কখন কী শারীরিক সমস্যায় পড়ে যাই।

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমাম সিকদার বলেন, সত্যি কথা বলতে গেলে আমরাও আতঙ্কে আছি। গত দেড়মাস ধরে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। কোনো এন্টিবায়োটিকে কাজ হচ্ছে না। আমি নিজেই এই ধরনের ১৫ জন রোগী নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। তাদেরকে ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা সুস্থ হয়েছেন কিনা জানতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, গত মঙ্গলবার পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ও আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. শাহ মোজাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউট (আইইডিসিআর) কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি তাদের একটি টিম দ্রুত গলাচিপায় গিয়ে গবেষণা করে জীবাণু শনাক্ত ও ধ্বংস করাসহ সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেবেন।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।