সিংহ ও চিতাবাঘের শাবকগুলো শার্শায় পৌঁছানোর কথা ছিল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৭

যশোরে সিংহ ও চিতা বাঘের শাবকসহ আটক কামরুজ্জামান বাবু ও রানা ভূইয়া সোমবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শাবক চারটি ঢাকার উত্তরার জসিম উদ্দিন রোড থেকে যশোরের শার্শার সামটা গ্রামে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তারা।

অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচরক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গাড়িচালক কামরুজ্জামান বাবু বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার বশিকড়াচকপাড়া গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে। বর্তমানে ঢাকার তুরাগ থানার ফুলবাড়ি টেকপাড়ার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ৬১ নম্বর বাড়ির রুহুল আমিনের ভাড়াটিয়া। আর রানা ভূইয়া (২৮) নরসিংদির পলাশ উপজেলার বকুলনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। ভাড়া থাকেন ঢাকার উত্তরা থানার ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/ডি নম্বর রোডের দাদা গার্মেন্টসের সামনের ৭ নম্বর বাসায়।

জবানবন্দিতে গাড়িচালক কামরুজ্জামান বাবু জানিয়েছেন, গাড়িটি জনশক্তি রফতানিকারক খাজা মঈন উদ্দিনের। তিনি ওমরা হজে যাওয়ায় তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঢাকার একটি রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে যশোরে যাওয়ার জন্য ২৭ হাজার টাকা ভাড়ায় চুক্তি হয় তার। ১৩ নভেম্বর সকালে রেন্ট-এ কারের তথ্য অনুযায়ী উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে গেলে দুইজন লোক তার গাড়িতে দুইটি বক্স উঠিয়ে দেয়। বক্সের ভেতর দুইটি সিংহ ও দুইটি চিতাবাঘের বাচ্চা আছে বলে তারা জানিয়ে দেয়। এরপর তাদের মধ্যে থেকে রানা তার সঙ্গে আসে। শাবক চারটি যশোরের শার্শার সমটা গ্রামের মুক্তির কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল তাদের।

jagonews24

রানা ভূইয়া জানিয়েছেন, তিনি একটি ফলের দোকানে মাঝেমধ্যে কাজ করতেন। সেখানে আক্কাস আলী নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি কাজ দেয়ার কথা বলে ১২ নভেম্বর রাতে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে যেতে বলেন। ভোরে জমিন উদ্দিন রোডে এসে দেখেন আক্কাস আলী দাঁড়িয়ে আছে। এরমধ্যে কালো রঙের একটি গাড়ি এসে তাদের সমনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় আক্কাস আলী গাড়িতে দুইটি বক্স উঠিয়ে দিয়ে যশোরের শার্শার সামটা গ্রামের মুক্তির কাছে পৌঁছে দিতে বলে। এ কাজের জন্য আক্কাস আলী তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর যশোর পুলিশ বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি থেকে দুইটি সিংহ ও ল্যাপার্ড ক্যাট শাবক উদ্ধার এবং দুইজনকে আটক করে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চোরাচালান দমন আইনে মামলা দেয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শাবক চারটিসহ আটক দুইজনকে ওই দিন বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে সোপর্দ করেন। বিচারক আদেশে শাবক চারটিকে বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তার জিম্মায় দেয়ার আদেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার আসামিদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেক আসামির দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মিলন রহমান/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।