ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড : গাইবান্ধায় আনন্দ মিছিল
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় গাইবান্ধায় মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। এই রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে আনন্দ র্যালি করেছেন গাইবান্ধা জেলা যুবলীগ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এদিকে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সবার মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনীর হয়ে আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ মো. রুহুল আমিন মঞ্জু, মো. আব্দুল লতিফ, আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী, নাজমুল হুদা ও আব্দুর রহিম মিঞা মানুষ হত্যা, মালামাল লুটসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার দুপুরে তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
এই রায়ে খুশি হয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরে আনন্দ র্যালি করে গাইবান্ধা জেলা যুবলীগ। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আহসান হাবীব রাজীব। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি আনন্দ র্যালি উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে শুধু মো. আব্দুল লতিফ গ্রেফতার রয়েছেন। আব্দুল আজিজ মিয়াসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ।
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্লাহ হারুন বাবলু জাগো নিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ তাদের বিচার হয়েছে। এজন্য এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গাইবান্ধা জেলা ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার গৌতম চন্দ্র মোদক জাগো নিউজকে বলেন, ঘোড়ামারা আজিজসহ অন্যান্য আসামিরা ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের সবার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এই রায়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সন্তুষ্ট ও ভীষণ খুশি হয়েছি। যারা পলাতক রয়েছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্যাহ আল ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, সকল প্রকার নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সুন্দরগঞ্জে পর্যাপ্ত পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া টহল পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন করছে।
রওশন আলম পাপুল/আরএআর/এমএস