কুয়াকাটার পথের এই হাল আর কতদিন?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৪:০৪ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

মামলা জটিলতার কারণে পাঁচ বছর যাবৎ আটকে আছে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের নির্মাণ কাজ। সড়কের ১১ কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেহাল সড়কের কারণে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা জটিলতা শেষ হলে দ্রুত সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মো. মাছুমুর রহমান বলেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের যাতায়াত সমস্যার কারণে এই মৌসুমে পর্যটকদের আগমনে শঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বলা হয়েছে।

তবে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি সড়কের মান ভালো। মামলা জটিলতা শেষ হলে দ্রুত ওই সড়ক নির্মাণের জন্য বিভাগ একটি প্রকল্প তৈরি করেছে।

Patuakhali

জানা গেছে, ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে ২০ কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা বাজার থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ পায় 'দি রুপসা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড'। ২০১২ সালে সড়কের কাজ শেষে হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের কাজের মান যাচাই করে ১৫ কোটি টাকা বিল প্রদান করে। কাজের মান সঠিক না হওয়ায় বাকি পাঁচ কোটি টাকা আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে কাজ না করেই টাকার দাবি করে ২০১৪ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে নিম্মমানের কাজের কারণে সেই থেকে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে সড়কটি। তাই বর্তমানে যান চলাচলের জন্য প্রতি বছর সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হচ্ছে সড়ক বিভাগকে। আর এতে গত পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটে চলাচলকারী নিউ কাইফা পরিবহনের চালক মো. সাদেক বলেন, পাখিমারা বাজার থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রাস্তা অনেক খারাপ। অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তাটা ভালো হলে আমাদের আর ভোগান্তি থাকবে না।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় আসা পর্যটক সোহেল বলেন, সমুদ্র সৈকত আমাদের টানে। কিন্তু কুয়াকাটার সড়কের যে অবস্থা!

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :