জিল্লুরের কারাগার!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাদুরা এলাকায় কারারক্ষী জিল্লুর রহমানের দাপটে অস্থির সাধারণ মানুষ। নিজ এলাকায় চাকরি করায় তিনি বিভিন্নজনকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে ঢুকিয়ে নির্যাতন চালান বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৬ নভেম্বর কারারক্ষী জিল্লুরের বিরুদ্ধে জেল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বাদুরা এলাকার বাসিন্দা লাল শরীফ। ওই আবেদনের অনুলিপি দেয়া হয় ডিআইজি প্রিজন,আইজি প্রিজন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে। তবে এতে করে কারাগারে থাকা অভিযোগকারীর ছেলে মনির হোসেনকে জেল হাজতে আরও বেশি নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা লাল শরীফ।

গত ১৭ অক্টোবর একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারারক্ষী জিল্লুর রহমান জেল পুলিশ পরিচয়ে লাল শরীফের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে মনিরকে মারধর করে। পরে মনিরসহ আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে জিল্লুরের চাচা হারুন হাওলাদার বাদী হয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় মনির ৯ নভেম্বর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদতালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে আদালত তাকে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। তবে কারারক্ষী জিল্লুর ওই মামলার ৩ নম্বর স্বাক্ষী হওয়ায় মনিরকে জেল হাজতের মধ্যে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে।

লাল শরীফ এ বিষয়ে অবগত হয়ে গত ১৫ নভেম্বর জেল সুপারের সঙ্গে দেখা করে একটি অভিযাগে দাখিল করেন। তবে ওই অভিযোগের পর জিল্লুরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মনিরের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয়।

এদিকে জিল্লুরের চাচা হারুন হাওলাদারের দায়ের করা মামলায় মনিরের জামিন হলেও ২১ নভেম্বর একটি চুরি মামলায় অজ্ঞাত আসামি করে মনিরকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কারারক্ষী জিল্লুরের বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছে। আমি এ বিষয়ে জেল সুপারকে অবগত করেছি।

লিখিত অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান জানান, বন্দি মনিরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। সে বলছে তিনি ভালো আছেন। তার কোনো সমস্যা নেই। জেল খানা একটি কঠিন সিকিউরিটি সম্পন্ন জায়গা, এখানে কেউ কাউকে হুমকি দিতে পারেনা।

তিনি আরও জানান, অভিযোগকারীকে দুইদফা অফিসিয়ালভাবে চিঠি দিয়ে জেলখানায় আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি আসেননি। আমি চেয়েছি দুইজনকে সামনা সামনি করলে ঘটনার সত্যতা বের হতো। কিন্তু অভিযোগকারী না আসায় সেটা সম্ভব হয়নি।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :