ছাত্রদের ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করলেন ছাত্রলীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৭:০৮ এএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

সময়মতো টাকা দিয়েও ফরম পূরণ করতে না পারায় শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে ফরম পূরণের জন্য টাকা দিলেও তিনি তা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

এদিকে প্রবেশপত্র না আসায় ছাত্ররা চরম হতাশায় পড়েছেন। এমন অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হক রিয়াদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অক্টোবর মাসে ফরম পূরণের কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় ব্যবস্থাপনা, দর্শনসহ বেশ কয়েকটি বিভাগের ছাত্ররা তাদের ফরম পূরণের টাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকরামূল হক রিয়াদের হাতে প্রদান করেন। তবে এ টাকা হিসাব শাখায় জমা না পড়ায় ৮ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন তাদের টাকা জমাই হয়নি। পরে তারা বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষসহ বিভাগের শিক্ষকদের জানান।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুল হোসেন জানান, আলী নামের এক ভাই আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রিয়াদের কাছে জমা দেন। আমাদের টাকা জমা হয়নি। সবাই প্রবেশপত্র পেলেও আমার মতো আরো কয়েকজন পাননি। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

দর্শন বিভাগের ছাত্র মোমিন অভিযোগ করে বলেন, ফরম পূরণের জন্য কলেজ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। আমি রিয়াদ ভাইয়ের কাছে ৩ হাজার টাকা জমা দিই। বাকি অর্থ কলেজ থেকে মওকুফ করে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আমিও ছাত্রলীগ করি, তাই রিয়াদ ভাইয়ের হাতে টাকা দিয়েছি। অন্যদের প্রবেশপত্র আসলেও আমারটা আসেনি।

তবে অভিযুক্ত ইকরামূল হক রিয়াদ বলেন, আমিতো শুধু মোমিনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। সে আমার এলাকারই ছোট ভাই। টাকা জমা দিলেও কেন প্রবেশপত্র আসেনি তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ হয়েছে এমন বিষয় জানাজানি হলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারো হাতে অর্থ না দিয়ে নিজেদেরকে (ছাত্রদের) সব কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির জানান, বেশ কয়েকজন ছাত্র প্রবেশপত্র হাতে পাইনি বলে আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে। কার ভুলের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওইসব ছাত্র আদৌ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না।

আল-মামুন সাগর/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :