গাইবান্ধায় হরতাল সমর্থকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা হরতালে বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলা শহরে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পরে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাসহ ছাত্র ইউনিয়নের সাতজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আহত ১০ নেতাকর্মীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে হরতালের সমর্থনে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিবি রোডের এক নম্বর ট্রাফিক মোড়ে আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেয়া শুরু করলে পুলিশ এসে বাধা দেয়।

পরে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মিহির ঘোষসহ, সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাতজন নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
অপরদিকে গাইবান্ধা জেলা শহরের কোথাও হরতালের কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে পুলিশ টহল দেয়। কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনের ন্যায় সাইকেল-মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান, মাইক্রোবাসসহ বাস-ট্রাক চলাচল করে।

সিপিবি গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষে আমরা আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০জন নেতাকর্মী আহত হয় ও সাতজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে আরও তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাসহ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মিছিল শেষে সড়কে বসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদেরকে সরানোর সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন ঢিল ছোড়ে। সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে কাউকে আটক করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
রওশন আলম পাপুল/আরএআর/পিআর