গাইবান্ধায় একটি ভাঙা কালভার্ট ভোগাচ্ছে হাজারও মানুষকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-দারিয়াপুর সড়কের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার তিনমাস পার হলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে রিকসা-ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ওই ভাঙ্গা কালভার্টটি পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আহত হচ্ছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনচালক ও মালিকরা।

সদর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে লক্ষ্মীপুর-দারিয়াপুর সড়ক পাকাকরণের সময় কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। তিন মাস আগে লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে দারিয়াপুর বাজারে যাওয়ার পথে একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের চাকা দেবে কালভার্টটি ভেঙে যায়। সেই সময় ওই সড়কে যানচলাচল ব্যহত হয়। পরে পাথর অন্য ট্রাকে স্থানান্তর করে ভেঙে যাওয়া কালভার্ট থেকে ট্রাকটি সরিয়ে নেয়া হলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু ভেঙে যাওয়া ওই কালভার্টটি আর মেরামত করা হয়নি। এখন ভাঙা এই কালভার্টটি পার হতে গিয়ে মানুষ ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটু অসাবধান হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায়ই রাত্রিতে যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।

সরেজমিনে দেখ গেছে, লক্ষ্মীপুর থেকে দারিয়াপুর সড়কে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি সাইকেল-মোটরসাইকেল, রিকসা-ভ্যান, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা ও পিকআপভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এতে অনেকসময় ঘটছে দুর্ঘটনা। এই অবস্থা দীর্ঘ তিনমাস থেকে চললেও কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

ভেঙে যাওয়া ওই কালভার্টের স্থানে প্রায় ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে দেখা গেছে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। একে একে যানবাহনগুলো লাইন ধরে থামছে ভাঙা কালভার্টটির সামনে এসে। এরপর যাত্রীরা নেমে রিকসা-ভ্যান, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা ধরে ধরে হেঁটে পারাপার হচ্ছে। পরে আবার গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছেন গন্তব্যে। বিশেষ করে এই পথে চলাচলকারী অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

Gaibandha

লক্ষ্মীপুর-দারিয়াপুর সড়কে চলাচলকারী ভ্যানচালক জব্বার মিয়া (৪৬) বলেন, রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে লক্ষ্মীপুর-দারিয়াপুর সড়কটির অনেকস্থানই বেহাল। প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেটা মেরামত করতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে। এরমধ্যে আবার ভাঙা কালভার্টটি বেশি ভোগাচ্ছে যানবাহনচালক ও মানুষদের। প্রায় পুরো কালভার্টটিই ভেঙে গেছে। সামান্য এক থেকে দেড়ফুটের মতো যেটুকু ভালো আছে সে অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও। বিশেষ করে এই সড়কে নতুন কোনো যানবাহন ঢুকলেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যানবাহনচালক ও যাত্রীরা।

কালভার্টটির পার্শ্ববর্তী সুপারিরভিটা গ্রামের স্কুলছাত্র শামীম রহমান (১৪) জানায়, লক্ষ্মীপুর-দারিয়াপুর সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক ধরে অসংখ্য স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে। ফলে তারা যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সম্প্রতি একটি যাত্রীবাহী ভ্যান ভাঙা কালভার্টটির স্থানে পরে গিয়ে এক মহিলাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে এই কালভার্টটি মানুষের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাদল মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ওই সড়ক ও কালভার্টটি এলজিইডির। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (আরসিআইপি) মাধ্যমে দুই মাস আগে লক্ষ্মীপুর-দারিয়াপুর সড়ক উন্নয়নের একটি ইস্টিমেট দেয়া হয়। পরে গত এক সপ্তাহ আগে ডিডি স্যারদের মিটিংয়ে রাস্তাটি যেনতেন ভাবে না করে উন্নত, রুট সেফটি, বাজার প্রসারে আরসিসিসহ যাবতীয় বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে একটি ইস্টিমেট তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়। যা আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে নতুন করে পাঠানো হবে। রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ শুরু হলে সেই সময় কালভার্টটিরও উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি মিটিংয়ে দেখা হবে। সেই মিটিংয়ে চেয়ারম্যানকে বলব একটি বাইপাস সড়ক করে দেয়ার জন্য।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।