মুন্সীগঞ্জের জোড়া শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলো উপজেলা প্রশাসন
মুন্সীগঞ্জে জোড়া লাগানো ইতি ও সিঁথির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম দোগাছি গ্রামে গিয়ে শিশু দুটির খোঁজখবর নেন।
এছাড়া শিশু দুটির খাবার ও চিকিৎসার জন্য যাতায়াতের খরচ বাবদ প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার টাকা নবজাতকের বাবা মো. আবু কালামের হাতে তুলে দেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজা পারভীন। আজ শুক্রবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।
শ্রীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগে বিভিন্ন মিডিয়াতে জোড়া সন্তানের খবরটি পড়ে বিস্তারিত জানতে পারি। পরবর্তীতে আমাদের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার সঙ্গে কথা বলি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি শিশু দুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেই। সে মোতাবেক উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ঢামেক হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিশু দুটিকে ভর্তির উদ্যোগ নেই। শুক্রবার তাদের সেখানে ভর্তি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিষয়। শিশু দুটির পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। তাই শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটির চিকিৎসার ভার নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ ডিসেম্বর উপজেলার দোগাছি গ্রামের মো. আবু কালামের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার রিতা সিজারের মাধ্যমে পেটের সঙ্গে জোড়া লাগানো দুটি মেয়েশিশুর জন্ম দেন। চিকিৎসকরা রিতা ও শিশু দুটিকে ১০ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন।
শিশু দুটির বাবা আবু কালাম বলেন, ‘বাচ্চা দুটি আজগর আলী হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক (নবজাতক) জাবরুল এস এম হকের তত্ত্বাবধানে ছিল। চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশু দুটির একটি হার্ট ও একটি লিভার রয়েছে। একটি শিশুর মাথার তালু পুরোপুরি হয়নি। শিশু দুটি চার থেকে ছয় মাস বেঁচে থাকলে অপারেশনের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা যাবে। তাতে একটি বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে। কারণ একটি হার্ট ও একটি লিভার দিয়ে দুজনকে একসঙ্গে বাঁচানো সম্ভব নয়।’
ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এফএ/আইআই