নদী তীরের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৩ এএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনা নদী তীরের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করানো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ইট তৈরির জন্য এসব মাটি মালিকরা ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে এমন কার্যক্রম। এতে ভাঙন বেড়ে আরও হুমকির মুখে পড়ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এ অবস্থায় ক্ষতির আশংকায় রয়েছে নবনির্মিত মেঘনার তীররক্ষা বাঁধ। এনিয়ে ক্ষুদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের নবীগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অর্ধশতাধিক শ্রমিক নদীর তীর ঘেষে ফসলি জমির মাটি কাটছেন। ১০-১২টি ট্রাক্টর ট্রলি বোঝাই করে মাটি অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এভাবে গত ১৫ দিন ধরে মাটি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর ও কমলনগর উপজেলার কিছু ইটভাটার মালিক দালালদের মাধ্যমে স্থানীয় জমির মালিকদেরকে মাটি বিক্রির জন্য প্রভাবিত করছেন। শিগগিরই নদীতে জমি বিলীন হবে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে নামমাত্র টাকা দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাটি।

lakhipur

নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা জানান, কমলনগর নদীভাঙন কবলিত এলাকা। নদীর তীরের একদিকে চলছে বাঁধের কাজ, অন্যদিকে তীর কেটে মাটি নিচ্ছে ইটভাটায়। তীররক্ষা বাঁধের মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তর পাশ থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এতে শুষ্ক মৌসুমেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

চর কালকিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ জানান, পরিকল্পিতভাবে কেউ মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারে না। যেন তীর থেকে মাটি কাটতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা তৎপর থাকব।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে জমির মালিক ও ইটভাটার মালিককে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার বলেন, স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাজল কায়েস/এফএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :