ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিলো পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

যশোরের ঝিকরগাছায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর দশ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুইজনকে আটকও করেছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের জড়িতের অভিযোগে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে আসামিদের কেউ পুলিশ সদস্য কীনা সেটি তারা এখনও নিশ্চিত নন। দু’দিন ধরে এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চললেও সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে রাখঢাক করে মুখ খুলছেন।

সোমবার দুপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার বেনেয়ালি এলাকায় সাদা পোশাকে ছয় ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে যশোরগামী একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশির এক পর্যায়ে দশ লাখ টাকা ছিনতাই করে। এসময় স্থানীয় জনতা তিনজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে দুইজনকে আটক দেখানো হয়।

এ ঘটনায় শার্শার ছোটআঁচড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আবদুর রশিদ বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জীবন সরকার, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি থানার ফলসি গ্রামের কাজী আবদুস সালামের ছেলে জহিরুল হক, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কয়ানিজপাড়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে শাহ আলম ও যশোর সদরের চাঁচড়া মোড় এলাকার হারুন গাজীর ছেলে সুমন।

যদিও এজাহারে আসামি জহিরুল হক পুলিশ কনস্টেবল ও শাহ আলম যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পরিচয় লেখা হয়নি বলে জানান ঝিকরগাছা থানার ডিউটি অফিসার এসআই জমির উদ্দিন।

তিনি বলেন, শুনছি ওই দুজন পুলিশ সদস্য। তবে তারা স্বীকার করেনি। স্যারেরা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পরে জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ছয় ব্যক্তি যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার বেনেয়ালি এলাকায় সাদা পোশাকে পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই পিকআপে থাকা ব্যাগ ভর্তি ৩০ লাখ টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পিকআপ আরোহীদের চিৎকারে স্থানীয় জনগণ পুলিশ পরিচয়দানকারী সাদা পোশাকধারীদের ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনজন মিলে দশ লাখ টাকার একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত ঝিকরগাছার দিকে পালিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে স্থানীয়রা আটক করে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

স্থানীয়দের দাবি, জনগণের হাতের আটক তিনজনের মধ্যে কনস্টেবল কাজী জহিরুল, এএসআই শাহ আলম ও চাঁচড়া এলাকার জীবন সরকার ছিল। পরে পুলিশ শাহ আলমকে ছেড়ে দিয়েছে। আর জহিরুল ও জীবনকে আটক দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ব্যবসায়ীর দশ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামি জীবন সরকার ও জহিরুল আটক আছে। বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছে। তবে আসামিদের মধ্যে কেউ পুলিশ সদস্য আছে কিনা সেটি নিশ্চিত নয়। তদন্ত না করে এ বিষয়ে বলা যাবে না।

অপরদিকে, যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহ আলমকে সোমবার রাতেই পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তবে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি একেএম আজমল হুদা দাবি করেছেন, প্রশাসনিক কারণে শাহ আলমকে ক্লোজড করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ঝিকরগাছা থানায় ছিনতাই মামলার আসামি শাহ আলম আর কোতোয়ালি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহ আলম একই ব্যক্তি কি না নিশ্চিত নয়। কাগজপত্র যাচাই না করে বলা যাবে না।

মিলন রহমান/এমএএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :