শীতে কাবু গবাদিপশুও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৬ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
শীতে কাবু গবাদিপশুও

তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেট বিভাগের জনজীবন। কনকনে বাতাসে নিম্ন আয়ের মানুষদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এরফলে বিপাকে পড়েছেন সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দারাও। আগামীকাল শীত আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও এই শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। কৃষকরা তাদের গবাদিপশুগুলোকে চটের বস্তা পরিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, সোমবার ভোরে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সিলেট জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হবিগঞ্জে ৭.১ ও সুনামগঞ্জে ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

Sylhet

তিনি আরও জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার তাপমাত্রা আরও কমবে। তবে আগামী বুধবার থেকে আবার তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।

নতুন বছরের শুরুতেই হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে খড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. হারুন অর রশিদ জানান, গত শনিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আগেরদিন শুক্রবারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ হঠাৎ করে ৫. ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।

Sylhet

সন্ধ্যা হলেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে পুরো সিলেট বিভাগ। রাতে বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। শীতের কারণে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। সঙ্গে দেখা দিয়েছে শীতজানিত বিভিন্ন রোগ। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে অনেক জায়গায়। শীতের কারণে আগের তুলনায় রাস্তাঘাটে জনসাধারণের চলাচলও কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে চাচ্ছে না।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু ও বৃদ্ধ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতেও স্থান দেয়া যাচ্ছে না। দুদিন ধরে নিউমনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি নিয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে আসছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. দেবপদ রায়।

ছামির মাহমুদ/এফএ/পিআর