পাটুরিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়


প্রকাশিত: ০৬:৫৫ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৫

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার লোকজন রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই আগে ভাগে পরিবারের অন্য সদস্যদের পাঠিয়ে দিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে। ফলে বুধবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাটে নামে ঘরমুখো মানুষের স্রোত আর যানবাহনের চাপ।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অফিস সূত্রে জানা যায়, যাত্রীদের চাপ সামলাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া-আরিচা-কাজির হাট নৌরুটে ৩৭টি লঞ্চ ও ১৮টি ফেরি এবং শতাধিক ট্রলার  প্রস্তত রাখা হয়েছে। তবে ফেরি ও লঞ্চ ছাড়া ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলের কোন বৈধতা নেই। উক্ত নৌরুটে চলাচলরত লঞ্চের মধ্যে অনেক লঞ্চের নেই ফিটনেস।

ফলে যানমালের নিরাপত্তার লক্ষ্যে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে প্রশাসনের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও লঞ্চগুলো ওভার লোড করে চলাচল করছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃহস্পতিবার সকালে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে লঞ্চ ও স্যালো নৌকাগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় নদী পারাপার করছে।

নৌ-যানের পাশাপাশি ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-আরিচা-পাটুরিয়া মহাসড়কে দুরপাল্লার কোচসহ সকল ধরনের যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পাটুরিয়া ঘাট সংলগ্ন মহাসড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। টার্মিনাল ও মহাসড়কের  জুড়ে রয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।

তবে কিছু যাত্রী অভিযোগ করে বলেছেন, এখন থেকেই গাড়িগুলো বাড়তি ভাড়া আদায় করতে শুরু করেছে। তবে এ অভিযোগ গাড়ির চালকরা অস্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য প্রতি বছরই ঈদের সময় দুরপাল্লার বাস, মাক্রোবাসগুলো দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করে থাকে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবছরও বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন এসব গাড়ির চালকরা এমন অভিযোগ অনেক যাত্রীদের।

এদিকে যাত্রীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভোগান্তি দূর করতে ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়েছে। রয়েছে র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল। এছাড়া যে কোন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং মহাসড়কে যানজট নিরসনে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের টহল। এছাড়া রাস্তার মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুলিশের একাধিক দল।

এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম গালিভ খাঁন বলেন, যাত্রীরা নির্বিঘ্নে এ রুট দিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন এ প্রত্যাশা আমাদের সবার। যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে না হয়  সে জন্য আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ঘাট এলাকায় প্রশাসনের লোকজন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে বলে তিনি জানান।

এসএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।