বরাদ্দ জটিলতায় টাকা জমা দিতে পারছে না সার ডিলাররা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

সারের মাসিক বরাদ্দ জটিলতার কারণে ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জের সার ডিলাররা টাকা জমা দিতে পারছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার সার ডিলাররা আশুগঞ্জ সার কারখানার এরিয়াভুক্ত হওয়ায় এ কারখানায় বরাদ্দের বিপরীতে নিয়মিত টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন করে থাকে।

চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই জানুয়ারি মাসে আশুগঞ্জ সার কারখানায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত না থাকায় কিশোরগঞ্জসহ কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার ডিলারদের অর্ধেক সার উত্তোলন করতে অন্যান্য কারখানায় স্থানান্তর করা হয়।

সারের মজুত স্বল্পতা বিবেচনা করে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার ডিলারদের চট্টগ্রাম সার কারখানায় এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ডিলারদের ঘোড়াশাল সার কারখানা থেকে অর্ধেক সার উত্তোলন করতে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেয়।

আশুগঞ্জ সার কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, মাসিক বরাদ্দ অর্ধেক এ কারখানায় এবং অর্ধেক ঘোড়াশাল সার কারখানায় পাঠাতে হবে।

অপরদিকে, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বলছেন এ সংক্রান্ত কোনো পত্র বিসিআইসি বা কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দেয়নি।

চলতি মৌসুমে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত মজুত নেই বলে জানান কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম। এ কারণে কিশোরগঞ্জের ডিলারদেরকে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া ডিলাররা বলছে, ঘোড়াশাল কারখানা থেকে সময়মতো সার উত্তোলন করা কঠিন হবে।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ সার কারখানার জিএম মো. নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা থেকে বিভাজন করে দুই কারখানায় অর্ধেক করে সার বরাদ্দ পাঠানো হবে। তাহলে আমরা অর্ধেক টাকা জমা নিয়ে অর্ধেক সার এ কারখানা থেকে সরবরাহ করব।

বিএফএ জেলা ইউনিটের সভাপতি তারিক আহমেদ জানান, বরাদ্দ কিভাবে হবে তা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নির্ধারণ হয়। কিন্তু এবছর বরাদ্দ জটিলতায় সময়মতো সার সরবরাহ করে কৃষকদের কাছে সময়মতো বিক্রি করতে পারবেন না ডিলাররা।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিম উদ্দিন বিশ্বাস জানান, দুই কারখানা থেকে ডিলারদের সার বিভাজন করে বরাদ্দ দিতে হবে এ ধরনের কোনো পত্র আমি পাইনি। তবে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেবেন বলে তিনি জানান।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :