ঠিকানা জানা নেই তাই বন্দি তারা
কোনো অপরাধ নেই তবুও যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দিজীবন কাটছে চার শিশুর। তারা বাকপ্রতিবন্ধী। নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় তাদের এই বন্দি জীবন। পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় কর্তৃপক্ষও তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারছে না।
দেশের চারটি জেলা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। দুই শতাধিক বন্দি শিশুর সঙ্গে তাদের রাখা হয়েছে। কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও শুধু স্বজনের সন্ধানের অভাবে শিশু চারটির এই বন্দিজীবন।
যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাটে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) অবস্থিত। কেন্দ্রটিতে চার বিভাগের ৩৭টি জেলার দুই শতাধিক শিশু রয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন মামলাসহ অজ্ঞাত উদ্ধার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে এখানে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে শিশু রয়েছে।
এই চার শিশুর একজন রুবেল (১১)। পাঁচ মাস আগে লালমনিরহাট থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নিজের নাম ‘রুবেল’ ও তার পিতার নাম ‘মকেল উদ্দিন’ এটুকুই সে লিখতে পারে। নাচ, ক্রিকেট, ফুটবলে সে পারদর্শী। মুখে আওয়াজ করলেও তা স্পষ্ট নয়।
গোপালগঞ্জ থেকে দু’মাস আগে আসা ছেলে শিশুটি (১৫) মুখে আওয়াজ করলেও তা স্পষ্ট নয়। তবে কুচকাওয়াজে সে বেশ পারদর্শী। আকাশে বিমান কিংবা হেলিকপ্টার উড়তে দেখলে স্যালুট দিয়ে সম্মান জানায়।
মাগুরা থেকে আসা শিশুটি (১৭) প্রায় দশ বছর যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। এখানে আসার পর তার নাম হয়েছে নাঈম। নামটি প্রকৃত না পরে দেয়া জানা যায়নি। অস্পষ্ট অল্প কথা বলতে পারে। শুধু বলতে পারে, ‘আব্বা আছে, বোন আছে’, বাড়ি ওইদিকে’। কিন্তু ঠিকানা বলতে পারে না।
চার মাস আগে নওগাঁ থেকে আসা শিশুটির (১৪) গলায় অস্পষ্ট আওয়াজ থাকলেও কোনো ভাষা নেই। এক ধরনের জোরালো আওয়াজ শুরু তার কণ্ঠনালী দিয়ে বের হয়। ঠিকানা নেই এই শিশুটিরও। ঠিকানা না থাকায় এই চার শিশুর কেউই ফিরতে পারছে স্বজনদের কাছে।
যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সাইকো স্যোশাল কাউন্সিলর মুসফিকুর রহমান বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী শিশুরা অন্য শিশুদের সঙ্গে থাকায় মানসিকভাবে তাদের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাদেরকে পরিবারের কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে রাখলে মানসিকভাবে সুরক্ষা পাবে। তবে পরিবার হল সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। শিশুদের পরিবারে ফেরাতে পারলে তারা আরও নিরাপদ হতো।
যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দীন জানান, বাকপ্রতিন্ধী চার শিশুর কোনো ঠিকানা নেই। সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতায় আমরা এদের স্বজনদের সন্ধান চাই। এদের স্বজন বা অভিভাবকদের সন্ধান পাওয়া গেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।
ব্লাস্ট যশোরের আইনজীবী সালেহা বেগম বলেন, আমরাও প্রত্যাশা করি শিশুগুলো তাদের পরিবারে ফিরে যাক। পরিবারের সন্ধান পেলে তাদেরকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আইনি সহায়তা দেয়া হবে।
মিলন রহমান/আরএআর/পিআর