নারায়ণগঞ্জ আ.লীগের হাল ধরা দু’পরিবারের সেকাল একাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:১৪ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৩২ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
নারায়ণগঞ্জ আ.লীগের হাল ধরা দু’পরিবারের সেকাল একাল

হকার ইস্যু নিয়ে মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমান সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনার পর আবারও নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতদিন শামীম ওসমান ও আইভীর বিরোধ বক্তব্যের মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলেও এবার তা সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিন পর শান্ত নারায়ণগঞ্জ আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। আর এ ঘটনায় আইভী ও শামীম ওসমানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে তা আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

একদিকে শামীম ওসমান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেন। ১৯৮১ সালে সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের পতিতাপল্লী উচ্ছেদ এবং যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তার প্রতীকী ফাঁসি দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় চলে আসেন শামীম ওসমান।

অন্যদিকে ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা যখন ১৯৮৪ সালে মারা যান আইভী তখন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন এবং চুনকার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনিই বড়। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৮৬ সালে তিনি বৃত্তি নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ওদেসা নগরের পিরাগভ মেডিকেল ইন্সটিটিউটে পড়তে যান। পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯২ সালে দেশে ফেরেন। আর ওই বছরই নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হন। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, একেএম শামছুজ্জোহা ও আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অন্যতম দুই প্রতিষ্ঠাতা। দু'জনই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তারা দু’জনই বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। এর মধ্যে শামছুজ্জোহা '৭০-এর নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন। '৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি। অন্যদিকে আলী আহাম্মদ চুনকা ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। পরে '৭৮ সালের নির্বাচনেও পৌর চেয়ারম্যান হয়েছিলেন তিনি। প্রয়াত এই দুই নেতাই ছিলেন দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। রাজনৈতিক আদর্শে দু'জনের অমিল ছিল না। দুঃখ-দুর্দশায় একে অন্যের কাণ্ডারি। আদর্শগত কিছু বিরোধ ছিল দু'জনের মধ্যে। কিন্তু এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনো দ্বন্দ্বে জড়াননি।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের হাল এখনও ধরে আছে দুই পরিবার। একদিকে শামছুজ্জোহার উত্তরসূরি শামীম ওসমান অন্যদিকে আলী আহাম্মদ চুনকার মেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। একজন একাধিকবারের সংসদ সদস্য, অন্যজন সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র, যিনি আবার সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে শামীম ওসমানকেই হারিয়েছেন। ভোট শেষেও মেটেনি তাদের এই বিরোধ। প্রায় নিয়মিত বাকিবিতণ্ডা আর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে গণমাধ্যমে খবর হয়ে আসছেন দুজনই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ এক নেতা বলেন, দলের ভেতর-বাইরে দ্বন্দ্ব তো নতুন কিছু নয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে শামীম-আইভীর দ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছেছে, তা আর নিয়ন্ত্রণে নেই। এতে আওয়ামী লীগের যথেষ্ট ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাংগঠনিকভাবেও দল অনেক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এভাবে তো দীর্ঘদিন চলতে পারে না। কেন্দ্রের উচিত যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি মীমাংসার মধ্যে নিয়ে আসা।

শাহাদাত হোসেন/এফএ/আরআইপি